চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মুশফিকের সামনে বড় অর্জনের হাতছানি

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনাল

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ট্রফি আগে ছুঁয়ে দেখা হয়নি মুশফিকুর রহিমের। আক্ষেপ দূর হল বৃহস্পতিবার বিকেলে। খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক প্রথমবার হাতে তুলে নিলেন লন্ডন থেকে নিয়ে আসা সম্পূর্ণ হাতে তৈরি ট্রফিটি।

মুশফিকের পাশেই রাজশাহী রয়্যালসের অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। দুই অধিনায়ক ট্রফি হাতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন তিনবার। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে গেল ফাইনালের উত্তাপ। ২০ লাখ টাকা দামের ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত কার হবে সেটি জানতে অপেক্ষা মাত্র ২৪ ঘণ্টার।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে মুখোমুখি হবে খুলনা-রাজশাহী। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী শিরোপা উঁচিয়ে ধরার ব্যাপারে। শিরোপা রোমাঞ্চের আগেরদিন রাজশাহীর ক্যারিবীয় অধিনায়ক রাসেল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও খুলনা পাঠিয়েছে হেড কোচ জেমস ফস্টারকে।

লিগপর্বে মুখোমুখি দেখায় খুলনা-রাজশাহী একে অপরের বিপক্ষে একবার করে জিতেছে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল আবার মুখোমুখি হয়েছে প্রথম কোয়ালিফায়ারে। রাজশাহীকে হারিয়ে খুলনা প্রথম সুযোগেই নিশ্চিত করে ফেলে ফাইনাল। রাজশাহীর জন্য ফাইনাল কঠিন হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হারের মুখ থেকে রাসেল-ঝড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ২ উইকেটে হারায় রাজশাহী।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে চতুর্থবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে খুলনা-রাজশাহী। একে অপরকে জানা ভালো করেই। পেছনের হিসেব যা-ই হোক, শেষ হাসি কারা হাসেন সেটি দেখার অপেক্ষাতে সবাই।

রাজশাহী অধিনায়ক রাসেল বললেন, ‘ফাইনালে যাওয়াতে জয়ের আশাই করতে পারেন। জেতার বাইরে কোনোকিছুই আমাদের মনে নেই। আমরা গত রাতে দলগতভাবে খেলেছি। দেখিয়েছি যে, আমরা পারি এবং আশা করি শুক্রবার রাতেও আমরা নিজেদের নিয়ে ভালো প্রতিরোধ গড়তে পারব।’

খুলনার ইংলিশ হেড কোচ ফস্টার বললেন, ‘রাজশাহীর বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয়টা দারুণ ছিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে খুব ক্লোজ মনে হচ্ছিল। খুলনা খুব সিরিয়াস এক দল। খুব ভালো দল। আমাদের কালও খুব ভালো খেলতে হবে। যতটা সম্ভব প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। শেষ চারটি ম্যাচ টানা জিতেছি। খুব ভালো ছন্দে আমরা। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে ফাইনাল ম্যাচে কতটা যথাযথ প্রয়োগ করতে পারি।’

মুশফিকের সামনে প্রথমবার শিরোপা জয়ের হাতছানি তো আছেই। অনেক ব্যক্তিগত অর্জনও তাকিয়ে তার দিকে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর ৭টা রান করতে পারলে দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এক আসরে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে যাবেন মি. ডিপেন্ডেবল। পেছনে ফেলবেন তামিম ইকবালকে।

এক আসরে সর্বোচ্চ রান তামিমের। ২০১৬ সালে চতুর্থ আসরে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে ৪৭৬ রান করেছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ফাইনালে নামার আগে মুশফিকের রান ৪৭০।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে একটি অপূর্ণতা ঘুচিয়ে ফেলেছেন মুশফিক। সাতবারের চেষ্টায় ফাইনাল খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। চলতি আসরে সর্বোচ্চ রানও তার। তার পেছনে একই দলের সাউথ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান রাইলি রুশো। সমান ১৩ ম্যাচে বাঁহাতি করেছেন ৪৫৮ রান। গত আসরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে রুশো ১৪ ম্যাচে করেছিলেন ৫৫৮ রান। বিপিএলের এক আসরে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে যেটি সর্বোচ্চ।