চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মুক্তি মিলছে প্রশ্নফাঁসের অভিশাপ থেকে?

চলতি বছরের এসএসসি সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শনিবার মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে দেশের দশটি শিক্ষা বোর্ডে অধীনে পরীক্ষা শুরু হলেও প্রথম দিন প্রশ্নফাঁসের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস মহামারি আকারে দেখা দেওয়ার পর গত এইচএসসি পরীক্ষায় এ বিষয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছিল। নতুন শিক্ষামন্ত্রী আসার পর প্রশ্নফাঁস বন্ধের সেই ধারাবাহিকতা আমাদেরকে আশাবাদী করেছে।

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ বিষয়ে নিজের এবং সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলে আসছিলেন ডা. দিপু মনি। তিনি শুধু কথাতেই থেমে থাকেননি, কাজেও পরিণত করেছেন। কারণ, প্রশ্নফাঁস বন্ধে দু’দিন আগেও সাতক্ষীরার স্টেডিয়াম এলাকা থেকে র‌্যাব এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে।

জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে র‌্যাব প্রধান জানিয়েছিলেন: ‘র‍্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তৎপর রয়েছে। প্রত্যেকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিংয়ে র‍্যাবের সক্ষমতা রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারীর পাশাপাশি সাইবার পেট্রোলিং ও আন্ডারকভার অপারেশন চলমান রয়েছে। পরীক্ষার সময় হল পরিদর্শনে র‍্যাবের অফিসাররা যাবেন। সেখানে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ ধরনের তথ্য থাকলে আমাদের জানাবেন, যেন শুরুতেই সমূলে উৎপাটন করতে পারি।’

Advertisement

এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ গজের ভেতর পরীক্ষার্থী ব্যতীত জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। প্রশ্নফাঁস বন্ধে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এমনই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন: ‘আমরা নকল ও প্রশ্নফাঁস মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা শেষ করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। সারাদেশে নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাই কোনোভাবে প্রশ্নফাঁস করা সম্ভব নয়। আগের চেয়ে এবার আমরা আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছি। তাই কেউ প্রশ্নফাঁস বা তার গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়বে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

প্রশ্নফাঁসের চেষ্টায় জড়িত কাউকে ছাড় না দেয়ার এই মানসিকতাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা মনে করি, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এখনও পর্যন্ত যেভাবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়নি, ঠিক একইভাবে শেষ পর্যন্তও যেন এমন অনাকাঙ্খিত অভিযোগ না পাওয়া যায় তা সংশ্লিষ্টদের নিশ্চিত করতে হবে।

তবে এটাও ঠিক যে সরকারের একার পক্ষে এ বিষয়ে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হবে না। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সবাইকে প্রশ্নফাস বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা মনে করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে প্রশ্নফাঁস নামক অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে আসবেই।