চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিজয় দিবসে রাবেয়া খাতুনের গল্পে ‘একাত্তরের নিশান’

চ্যানেল আইয়ে ৩টা ৫ মিনিটে দেখানো হবে রাবেয়া খাতুনের গল্প অবলম্বনে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘একাত্তরের নিশান’

প্রতি বছর মহা ধুমধামে বিজয় উৎসব উদযাপন করে চ্যানেল আই। সেইসঙ্গে টেলিভিশনে দিনভর চলে দারুণ সব অনুষ্ঠান। চলতি বছর করোনার কারণে সর্বসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে উৎসব আয়োজন না করলেও দিনব্যাপী ভার্চুয়াল বিজয় উৎসব করবে চ্যানেল আই। সম্প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

তারই অংশ হিসেবে এদিন ৩টা ৫ মিনিটে দেখানো হবে রাবেয়া খাতুনের গল্প অবলম্বনে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘একাত্তরের নিশান’। যে ছবির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তাহের শিপন।

বিজ্ঞাপন

ছবিতে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, কচি খন্দকার, সেরা জামান, মুনিরা মিঠু প্রমুখ।

গল্পে দেখা যাবে, ১৯৭১। বুড়িগঙ্গা ধলেশ্বরীর মোহনা ছাড়িয়ে ছোট নদী মধুমতির পাড়ের তল্লাট কৈলহাটি। গ্রামের কিশোরদের দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায় মধুমতিতে, সেই কিশোর দলের সবচেয়ে দক্ষ সাঁতারু নিশানের চোখেই প্রথম পড়ে, দূর দূরান্ত থেকে কৈলহাটির দিকে ভেসে আসছে অজস্র নৌকা। রহস্যের কূল কিনারা না করেই কিশোরদের ছুটতে হয় স্কুলে, থার্ড স্যার সানাউল্লাহ যে বড় কড়া! থার্ড স্যার অসম্ভব গম্ভীর মুখে সবাইকে মনে রাখতে বলেন গতকালের দিন তারিখটা, খুলে বলেন বাঙালিকে ক্রীতদাস বানানোর পুরো চক্রান্ত, বলেন বাঙালি এখন ভাসবে কলমীলতার মত।

থার্ড স্যারের কথা শেষ হতে না হতেই ঘাটে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়, নিশানদের দলটা দেখতে পায় স্যারের কথাই সত্যি, আত্মীয় স্বজনরা পালিয়ে এসেছে গ্রামে, পোশাক এলোমেলো, চোখ ভরা ক্লান্তি। নিশানের চাচা-চাচী-চাচাতো বোন মিলি আর তার বয়সী দিলুও সেই পালানো মানুষদের দলে। গ্রামের মাতব্বর-মুরুব্বী শ্রেণীর লোকরা প্রকৃত ঘটনা জানতে এসে জড়ো হন নিশানদের উঠানে, নিশানের চাচা খুলে বলেন দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি, আতঙ্কিত হয়ে ওঠে সবাই শুনে। আচমকা গ্রামের বেশীর ভাগ যুবক লাপাত্তা হয়ে যায়, যাবার আগে নিশানদের বলে যায় তারা নিজেদের দেশ নিজেদের করেই ফিরবে।

একদিন হা-ডু-ডু খেলতে খেলতে নিশানরা বিলের ওপারে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে ফিরতে থাকে, ততক্ষণে অজানা থাকে না মুলাকান্দির হাটে আগুন দিয়েছে পাক বাহিনী। নিশানের বাবাকে তার মা হাটে যেতে নিষেধ করে খুব করে, কিন্তু নিশানের বাবার হাস্যোজ্জ্বল জবাব, স্ত্রী পুত্র কন্যাকে পৃথিবীতে রেখে তাকে স্বয়ং আজরাইলও নিয়ে যেতে পারবে না। দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়, ফিরে আসে না হাটুরেদের দল, খবর পাওয়া যায় হাটুরেদের দল প্রাণ দিয়েছে মিলিটারীদের হাতে, তিনদিন পর আসে নিশানের বাবার লাশ, একে একে সবাই চলে যায়, শুধু নিশান জেগে থাকে বাবার কবরের পাশে। কবরের কাছে যে জানতে চায় সময় কী এখনো আসেনি বাবা? কবরের কাছ থেকে কোন উত্তর আসে না। নিশান মাকে সরাসরি বলে যুদ্ধে যাবে সে! তারপর ঘটে রুদ্ধর্শ্বাস অনেক ঘটনা।