চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে জামালপুরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

বাঙালির সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে শহর নগরে নানারকম উদ্যোগ থাকলেও গ্রামাঞ্চলে তেমন উদ্যোগ নেই বললেই চলে। দুয়েকটি ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যতিক্রম। কৃষিনির্ভর জীবন-জীবিকার মধ্যেই ইতিহাসকে জাগিয়ে রাখতে রয়েছে সচেতনতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

স্বাধীন ভূখণ্ড আর মুক্তির চেতনায় বাঙালির জীবন সংগ্রামের ইতিহাস অনেক পুরনো। যুগে যুগে নানা বিদ্রোহ আন্দোলনের পথ পেরিয়ে এসেছে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাসের ধারাবাহিক এই তথ্য গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অজানা।

বিজ্ঞাপন

জীবন-জীবিকা আর টানাপোড়েনে গ্রামগুলোতে যখন ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ ঝিমিয়ে পড়ছে তখন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝিনাই নদীর পাড়ে প্রত্যন্ত কাপাসহাটিয়া গ্রামটি দূর-দূরান্তে ছড়াচ্ছে আলো। নিভৃত এই পল্লীতেই গড়ে উঠেছে মুক্তি সংগ্রাম যাদুঘর।

যাদুঘরটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হামিদুল হক দোদুল বলেন, জামালপুর ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সেই ইতিহাস এবং পাশাপাশি সারা দেশের ইতিহাসকে সংগ্রহ করে একটি বৃহৎ সংগ্রহশালা তৈরির লক্ষ্যে কাজ চলছে।

শুরুটা ১৯৩৪ সালে গান্ধী আশ্রম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। তারপর বড় বড় মনীষীর পদচারণায় ধন্য হয়েছে এই ক্ষেত্র।

মুক্তি সংগ্রাম যাদুঘরের পরিচালক উৎপল কান্তি ধর জানান, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এছাড়া সাম্যবাদী আন্দোলনের নেতা ও মনীষীসহ বহু মানুষ এখানে এসেছেন। বাঙালির মুক্তির পথ কী হবে তা নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান, অনেক মত-পথের সমন্বয় করার চেষ্টা এখানে হয়েছে।

সবশেষে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে আশ্রমটি ব্যবহৃত হয় বলে জানান উৎপল কান্তি ধর।

একদিন সময়ের প্রয়োজনেই গড়ে উঠেছে আধুনিক এই মুক্তিসংগ্রাম যাদুঘর। যেখানে প্রতিদিন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা আসছে, জানছে ইতিহাসের অপরিহার্য সত্যগুলো।

যাদুঘরটি দেখে শিক্ষার্থীরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় না থাকলেও এখান থেকে নিদর্শনগুলো নিজ চোখে দেখে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তারা নতুন করে জানতে পারছেন। নইলে হয়তো শুধু পাঠ্যবই পড়েই যা জানার জানতে হতো।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের চরাঞ্চলে এমন একটি প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে একটি দারুণ উদ্যোগ বলে মনে করছেন দর্শণার্থীরা।

বিজ্ঞাপন