চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মিয়ার বেটা’ চলে যাওয়ার চার বছর

শহিদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ নাটক যারা দেখেছেন তারা কখনও ভুলতে পারবে ‌‌‌‌‌‌‌‌মিয়ার বেটাকে?অভিজাত, ব্যবসায়ী, আমলা, গ্রামীণ মোড়ল কিংবা দরিদ্র কৃষক, মন্দ মানুষ যে কোনো চরিত্রেই মানিয়ে যেতেন তিনি। খলিলউল্লাহ খান ছিলেন এমনই এক অভিনেতা যাকে ভোলা অসম্ভব। যে চরিত্রে অভিনয় করতেন সে চরিত্রকে যেন ধারন করতেন আত্মায়।

অভিনয়ে তাই ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আজ এই মিয়ার বেটা চলে যাওয়ার চার বছর। ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর ফুসফুস, লিভার ও কিডনির জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন রয়েছে বলে জানা যায়।

অভিনেতা খলিলের জন্ম ১৯৩৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি সিলেটে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৫ সালে ‌‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী’ নামের সিনেমাটি পরিচালনা করেন। প্রযোজনা করেছেন ‌‘সিপাহী’ এবং ‘এই ঘর এই সংসার’ নামে দুটি ছবি। প্রায় আটশ বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন খলিল। ‘আলোর মিছিল’ সিনেমায় রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া ব্যবসায়ী হিসেবে অনবদ্য অভিনয় করেন খলিল।

তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী’, ‘ওয়াদা’, ‘বিনি সুতার মালা’, ‘আগুন’, ‘পাগলা রাজা’, ‘বউ কথা কও’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘মাটির ঘর’, ‘নদের চাঁদ’, ‘মাটির ঘর’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘বেঈমান’, ‘অশান্ত ঢেউ’ উল্লেখযোগ্য। তিনি ‘বেগানা’ সিনেমায় প্রথম খলচরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর বহু সিনেমায় তাকে খলচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। তিনি অসংখ্য টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরু থেকেই এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।

খলিলউল্লাহ খান এক পরিপূর্ণ শিল্পীর জীবন যাপন করে গেছেন। সর্বোপরি পেয়েছেন দর্শকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার নাম লেখা থাকবে চিরদিন। আর তিনি বেঁচে থাকবেন দর্শকের হৃদয়ে।

ছবি: সংগৃহিত