চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মিয়ানমারে অস্ত্র ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে জাতিসংঘের আহ্বান

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানোয় দেশটির সামরিক ব্যবসা বাণিজ্যর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন জাতিসংঘের তদন্তকারী দল।

জাকার্তায় জাতিসংঘের তদন্ত দলের প্যানেল চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসমান এ অনুরোধ জানান।

ইন্দোনেশিয়ায় এক সাক্ষাতকারে জাতিসংঘের তদন্ত দলের প্যানেল চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসমান বলেন, ‘এই প্রথম পরিষ্কার ছবিসহ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ইউরোপ এবং এশিয়ার কিছু কোম্পানি সরাসরি সহিংসতার সাথে জড়িত ছিল। যা জাতিসংঘের আইন ও নীতিকে লঙ্ঘন করা হয়েছে।’ সংবাদ মাধ্যম রয়র্টাস এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে সম্পর্কিত সকল অর্থনৈতিক কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কিছু বিদেশি কোম্পানি এখনো মিয়ানমার সেনা বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে যার ফলে তারাও পরোক্ষভাবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।

জাতিসংঘের একদল মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ দল মিয়ানমারের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে এমন প্রায় বিশটি কোম্পানিকে চিহ্নিত করেছে যার সাথে সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এবং ওই কোম্পানিগুলো রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াতে ক্যাম্পেইন করে সেনাবাহিনীদের নির্যাতন চালাতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছেন ওই তদন্তকারী দল।

বিজ্ঞাপন

তদন্তকারী প্যানেলের পক্ষ আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সকল অর্থনৈতিক লেনদেন বিচ্ছিন্ন করতে সুপারিশ করা হয়। তদন্তকারীরা বলছেন নতুন ওই রিপোর্ট এখন সেনা নিয়ন্ত্রণ কোম্পানি গুলোর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে সহায়ক হবে।

তদন্তে বলা হয়েছে কমপক্ষে ৫৯টি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ততা আছে। যার বেশির ভাগ কোম্পানি ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, হংকং, চীনের কোম্পানি রয়েছে। ১৫ টি কোম্পানি যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও ইসরাইল, ভারত, সাউথ কোরিয়া ও চীনের প্রায় ১৪ টি কোম্পানি ২০১৬ সাল থেকে দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনা বেচা করে আসছে।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। জাতিসংঘ দেশটির সেনাবাহিনীর এ অভিযানকে জাতিগত নিধন অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছে।

এর আগেও রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস। দেশটির অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের কোন মিল নেই বলে সেনাপ্রধান বক্তব্য দেয়ার পর তিনি এ সমালোচনা করেন।

গুতেরেস বলেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে সেনা মোতায়েন করা নিয়ে জেনারেল উ মিন অং হাইংয়ের বক্তব্যের খবরে তিনি ‘স্তম্ভিত’।

বিজ্ঞাপন