চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মিয়ানমারের ফুঁসে ওঠা জনগণের পক্ষে গোটা পৃথিবী

ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই বেশিরভাগ সময় সেনাশাসন চলেছে মিয়ানমারে। ১৯৬২ সালে বেসামরিক প্রশাসন বাতিল করেন জেনারেল নে উইন। সরকার পরিচালনার জন্য বেসামরিক প্রশাসন যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরের ২৬ বছর সরকার পরিচালনা করেন নে উইন।

১৯৮৮ সালে অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন এই জেনারেল। এর কয়েক সপ্তাহ পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের কথা বলে সামরিক নেতাদের নতুন একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ২০১১ সালে জান্তা সরকারের নেতা জেনারেল থান সুয়ে পদত্যাগ করেন। দেশের সংবিধান মেনে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের সমন্বয়ে গঠিত সরকারের কাছে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৬০ বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন ছিল জান্তা সরকার। সামরিক শাসনের নিষ্পেষণে জর্জরিত মিয়ানমার বহু সংগ্রাম ত্যাগ দুর্গম পথ অতিক্রম করে মাত্র গণতন্ত্রে স্থিতু হতেই আবারও সামরিক জান্তার ক্ষমতা দখল। গত ১ ফেব্রুয়ারি এক রক্তপাতহীন অভুত্থানের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে নেয় সামরিক বাহিনী। বিশ্বের প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশে সামরিক শাসকরা নানা অজুহাতে গণতন্ত্রপন্থীদের রাজনীতিবিদদের দোষ ধরে নানান গল্পের অবতারণা করে। নানা প্রতিশ্রুতিও দেয় তারা। কিন্তু ইতিহাস বলে এইসব জোরজবরদস্তির ক্ষমতা দখল কখনও সাধারণ জনগণ মেনে নেয় না। পৃথিবীর দেশে দেশে সামরিক শাসন বিরোধি আন্দোলনের মুখে কেউই টিকতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

উপমহাদেশের পাকিস্তান আর আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের শুধু একটি ছিদ্র প্রয়োজন হয়। বিশ্ব রাজনীতির নানারূপ সমীকরণে এখন সামরিক শাসনকেও মোড়ল দেশগুলো সমর্থন দেয় না। ফলে তাদের টিকে থাকতে সমস্যা হয়। আমাদের প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করলে দেশটির সাধারণ মানুষ ব্যাপক বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসে সেনাবাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে।

সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখলের পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বিক্ষোভ চলছে দেশজুড়ে। সামরিক জান্তার কঠোর বিধিনিষেধ, দমন-পীড়ন সত্ত্বেও প্রতিদিন হাজারও মানুষ মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডো, দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন শহর-নগরে বিক্ষোভে শামিল হচ্ছে। বিক্ষোভ দমাতে নিরাপত্তা বাহিনী ধরপাকড় চালাচ্ছে। অভ্যুত্থানের পর এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৫০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকালে সামরিক বাহিনীর গুলিতে আহত এক নারী মারা গেছেন। ২০ বছর বয়সী ওই নারীর নাম মিয়া থতে থতে খাইং। মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে এই প্রথম কোনো বিক্ষোভকারী মারা গেলেন। ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানী নেপিডোতে সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভকালে আহত হন মিয়া থতে থতে খাইং। এদিন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, রাবার বুলেট ও গুলি করে।

মিয়ানমারের জনগণের এই স্বতস্ফূর্ত প্রতিবাদে একটি মৃত্যু হয়তো ছড়িয়ে দিতে পারে বিক্ষোভের দাবানল। সামরিক শাসন বিরোধি মিয়ানমারে জনগনের এই সাহসকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি নানা ত্রুটি বিচ্যুতি থাকার পরও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিকল্প সেনা শাসন নয়। সেনাবাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকবে। পৃথিবীর যে কোনো সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আমরা সাধারণ জনগণের পক্ষে। মিয়ানমার অচিরেই সেনা শাসন মুক্ত হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করি প্রতিবেশি দেশ হিসেবে।