চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মিয়ানমারের দু:সাহস

সেন্টমার্টিনকে মিয়ানমারের অংশ দাবি করার ঘটনা শুধু দু:খজনক এবং অপ্রত্যাশিতই নয়, এটা আন্তর্জাতিক সকল নীতির লঙ্ঘন এবং মিয়ানমারের দু:সাহস। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সদিচ্ছার অভাবই আরো একবার প্রকাশিত হলো বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবীর বলেছেন, যখনই ওরা চাপের মধ্যে পড়ে তখন চাপটাকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার জন্য এই ধরনের ইস্যু সামনে নিয়ে আসে। হতে পারে এমন একটা চেষ্টা তারা এর মধ্য দিয়ে করছে। অথবা সত্যিই তারা ভুল করেছে। এর আগে তারা মুক্তিযুদ্ধের ছবিও ব্যবহার করে পরে বলেছে ভুল করেছে। তবে তাদের ম্যাপ বিষয়ে আরো সচেতন হওয়ার দরকার ছিলো। রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে তাদের সদিচ্ছার অভাবই আবার এর মধ্য দিয়ে সামনে আসলো।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে মিয়ানমার। এ কারণে ঢাকায় নিযুুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ লুইন ও’কে ইতোমধ্যে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে এমন মিথ্যা দাবির জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

হুমায়ূন কবীর

সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানোর কথা স্বীকার করে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ভুলবশত এটি হয়ে গেছে। যদি কেউ ১৯৩৭ সাল থেকে ইতিহাসের দিকে তাকায় তাহলে দেখা যায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি কখনোও মিয়ানমারের অংশ ছিল না।

রোহিঙ্গা ইস্যু এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ বড় একটা জায়গা করে নেয়ায় সেখান থেকে নজর সরানো মিয়ানমারের পক্ষে এত সহজে সম্ভব নয়। তাই সেন্টমার্টিন ইস্যুর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিলো বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান এহসানুল হক।

Advertisement

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবাদলিপি দিয়েছে, তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, এটা তাদের ভুল হয়েছে। তবে এ ধরনের একটা ঘটনা দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত। সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অধীনে রয়েছে। এটা যদি মিয়ানমারের সরকার ভুল করেও থাকে এটা সাধারণ কোনো নয়, বরং বড় ধরনের ভুল।

‘আমি মনে করি, রোহিঙ্গা ইস্যু এত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গেছে যে কূটচাল বা দুরভিসন্ধি দিয়ে সেটা থেকে নজর সরাতে পারবে না মিয়ানমার। তবে এসব আচরণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে তাদের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। কিছুদিন আগেও তারা মুক্তিযুদ্ধের ছবি ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিভিন্ন কথা ছড়ায়, পরে স্বীকার করে তারা ভুল করেছে। তাদের এসব আচরণে দুদেশের মধ্যে একটা অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।’

অধ্যাপক এহসানুল হক

তাহলে এখন বাংলাদেশের করণীয় কী? এমন প্রশ্নের জবাবে এহসানুল হক বলেন, তারা মনে হয় বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে চাইছে। যদিও তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে, তবে সেটা মোটেও যথেষ্ট নয়। তাদের কাছে বাংলাদেশ সরকারের ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত। তাদের পাল্টা চাপে ফেলা উচিত। কেন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অংশ বা ভূখণ্ডকে নিজেদের দাবি করলো তারা। এর পেছনে কি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিলো?

তবে এক্ষেত্রে একটু কৌশলী হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটা রাষ্ট্রের কাছ থেকে এই ভুল অপ্রত্যাশিত। তারা দায়িত্বহীন কাজ করেছে। তবে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে।

‘ভবিষ্যতে তারা এমন কিছু বিষয় নিয়ে আসবে যেটা আমাদের অপ্রস্তুত করে ফেলবে। বাংলাদেশকে কৌশলী হতে হবে। এই বিষয় নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি না হয় সেজন্য কৌশলী হতে হবে। সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আরো কঠিন হবে। ’