চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মিয়ানমারে একদিনে প্রায় অর্ধশত নিহত, কয়েক শহরে সামরিক আইন জারি

মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে চীনা অর্থায়নে নির্মিত শিল্পাঞ্চলে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের পর আরো কয়েকটি শহরে নতুন করে সামরিক আইন জারি করা হয়েছে।

সোমবার দেশটিতে সেনাবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় অর্ধশত আন্দোলনকারী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। আটক করা হয়েছে ২ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ইন্টারনেট সমস্যার কারণে ক্ষমতাচ্যুত স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সোমবারের ভার্চুয়াল শুনানি স্থগিত করেন আদালত।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের মারমুখী আচরণের পরও বিক্ষোভের মাত্রা আরো বাড়ছে। জান্তা সরকারের পাশাপাশি চীনবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা হচ্ছে আন্দোলনকারীদের মধ্যে। বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের হ্লাইংথায়া শিল্পাঞ্চলে চীনা অর্থায়নে নির্মিত বেশ কয়েকটি কারখানা এবং একটি রেস্তোরাঁয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে চীন মদদ দিচ্ছে অভিযোগে চীনা পণ্য বর্জনেরও আহ্বান জানায় বিক্ষোভকারীরা।

কারখানায় হামলা-ভাংচুরের সময় আহত হন বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিক। পরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানায় মিয়ানমারে চীনের দূতাবাস। এ বিষয়ে চীনা দূতাবাস এক বিবৃতি প্রকাশ করলে চীনা কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকা এলাকায় নতুন করে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেয় জান্তা সরকার।

বিজ্ঞাপন

এরপর মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ বাহিনী তাণ্ডব চালায় বিক্ষোভকারীদের ওপর। তাদের নির্বিচারে ছোঁড়া গুলিতে ইয়াংগুনের হ্লাইংথায়া শিল্পাঞ্চলেই প্রাণ হারাণ কমপক্ষে ২২ বিক্ষোভকারী। পাশাপাশি আরো কয়েকটি শহরে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায় মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের পর একদিনে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে সোমবার।

সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে সেনাবাহিনীর জন্য অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে সদস্য দেশগুলিকে আহ্বান জানান, মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত।

সেনাবাহিনী ও বেসামরিক সরকারের মধ্যে নির্বাচনে জালিয়াতি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ঘটে।

এর পরপরই এনএলডির শীর্ষ নেত্রী অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সদস্যসহ প্রভাবশালী রাজনীতিকদের আটক করে সেনাবাহিনী।

পরে সেনাবাহিনী এক ঘোষণায় জানায়, আগামী ১ বছরের জন্য মিয়ানমারের ক্ষমতায় থাকবে তারা।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসে। বড় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা ও রাত্রিকালীন কারফিউ থাকা সত্ত্বেও তারা বিক্ষোভ দেখায়।

বিজ্ঞাপন