চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মিস ইংল্যান্ড’ খেতাব খুলে করোনাযুদ্ধে ডা. ভাষা মুখার্জী

২০১৯ সালের ‘মিস ইংল্যান্ড’ বিজয়ী ডা. ভাষা মুখার্জী।  তুমুল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্রিটেনের সেরা সুন্দরীর পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন এই বাঙালি-ব্রিটিশ তরুণী।  এরপর থেকে বিভিন্ন দেশে দাতব্য কাজে দূত হিসেবে মহাব্যস্ত সময় পার করছিলেন। চলতি আগস্ট পযন্ত আফ্রিকা, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তানে বিভিন্ন দাতব্য কাজে ব্যস্ত থাকার আমন্ত্রণ ছিলো তার। কিন্তু সেসব বাদ দিয়ে নিজ দেশ ব্রিটেনে ফিরে এসেছেন করোনাযুদ্ধে লড়াই করতে।

মিস ইংল্যান্ড বিজয়ী হওয়ার পর তিনি চিকিৎসা পেশায় বিরতি দিয়েছিলেন, সে সিদ্ধান্তকে ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়ে আবারও ফিরতে চান ডাক্তারিতে। করোনার বিরুদ্ধে দেশের হয়ে লড়াই করতে চান ডা. ভাষা।

বিজ্ঞাপন

সিএনএনকে তিনি বলেছেন, আমি আফ্রিকা, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দাতব্য কাজে দূত হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলাম। কিন্তু দেশের এমন দুর্দিনে আপাতত দেশের মানুষ থেকে দূরে থাকতে চাই না।

ব্রিটেনের করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি মারাত্মক খারাপ হওয়ার পাশাপাশি বোস্টনের পিলগ্রিম হাসপাতালে তার পুরানো সহকর্মীদের পাঠানো বার্তা তাকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই থেকে দূরে থাকতে দিচ্ছে না।  ইতোমধ্যে তিনি হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের কাজে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ভাষা বলেন,  এমন কঠিন সময়ে মিস ইংল্যান্ডের মুকুট পরে থাকাকে ভুল হিসেবে অনুভব করছি। যেখানে সারাবিশ্ব করোনাভাইরাসে মরতে বসেছে, আমার সহকর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে, এমন অবস্থায় সুন্দরীর মুকুট পরে ঘুরতে পারি না আমি। তাই আমি ঘরে ফিরতে চেয়েছি, আমি সরাসরি কাজে নেমে যেতে চাই।

ভাষা মুর্খার্জী ৯ বছর বয়সে কলকাতা থেকে ইংল্যান্ডের ডার্বিতে চলে এসেছিলেন পরিবারের সাথে।

“আমি অনুভব করতে পারছি যে, আমি যে ডিগ্রিটা পেয়েছি তার যথাযথ কাজে লাগানোর এটাই উপযুক্ত সময়। মিস ইংল্যান্ডের মুকুট জেতার পর দেশকে কিছু দেয়ার এখন যথাযথ সুযোগ“

তিনি বলেন, পুরো বিশ্ব করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। আমিও এই যোদ্ধাদের একজন হতে চাই। আমি জানি, আমি সহযোগিতা করতে পারি।

বুধবার তিনি কলকাতার ব্রিটিশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্রাঙ্কফুট হয়ে লন্ডন ফ্লাইটে দেশে ফিরে এসেছেন। কোয়ারেন্টিন শেষ হলেই ফিরবেন হাসপাতালে।

২৪ বছর বয়সী ডা. ভাষা মুখার্জী মূলত শ্বাস-প্রশ্বাস ওষুধ বিশেষজ্ঞ হলেও দেশের প্রয়োজনে যেকোনো সেক্টরে কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।