চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাহে রমজানে যেসব ইবাদতে অসংখ্য-অগণিত ফজিলত

মহিয়ান গরিয়ান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সৃজন করেছেন। প্রত্যেকটি কাজের কর্তা তার কাজের পেছনে একটি উদ্দেশ্য লালন করে থাকেন। সচেতন কেউই অহেতুক বা অমূলক কোনো কাজ করেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেছেন, ‘আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি এ জন্য যে তারা আমারই ইবাদত করবে’ (সূরা আল-জারিআত- ৫৬)। অপর আয়াতে আল্লাহ বলছেন: ‘আপনি বলুন, আমার নামায, আমার কোরবানী এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে’ (সূরা আনয়াম- ১৬২)। উপর্যুক্ত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টির উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছেন এবং তার ইবাদত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

মুসলমানদের প্রতিটি সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা, দিবস, সপ্তাহ, মাস ও বছর আল্লাহর ইবাদত তথা আরাধনায় কাটাতে হবে। আমরা বছরের ১২ মাসই সুন্নাহ অনুসরণ করে আল্লাহর ইবাদত করে থাকি। তবে হাদিস শরীফে পবিত্র মাহে রমজানে ইবাদত করার অসংখ্য-অগণিত ফজিলত বর্ণনার পাশাপাশি সাওয়াবের আধিক্যের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। তাই অন্য মাসের তুলনায় অপেক্ষাকৃত একটু বেশি ইবাদত করা হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ১টি নফল আমল করল, সে যেন অন্য মাসের ১টি ফরজ আমল করল। আর যে এ মাসে ১টি ফরজ আমল করল, সে যেন অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আমল করল’ (সহি ইবনে খুজাইমা)।

বিজ্ঞাপন

হযরত কাব বিন উজরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ‘একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের ১ম সিঁড়িতে পা রাখলেন, বললেন আমিন। যখন ২য় সিঁড়িতে পা রাখলেন, বললেন আমিন। আবার যখন ৩য় সিঁড়িতে পা রাখলেন, বললেন আমিন। উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমরা আজ এমন কিছু শুনলাম, যা এর আগে কোনো সময়ে শুনিনি। তখন নবীজী বললেন, হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম আমার কাছে আগমন করেছিলেন। যখন আমি ১ম সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তির যে রমজান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ হল না। তখন আমি আমিন বললাম। যখন ২য় সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস ওই ব্যক্তির জন্য যার সামনে আমি নবীর আপনার নাম উচ্চারণ করা হল, কিন্তু সে আপনার উপর দরূদ পাঠ করল না। তখন আমি আমিনবললাম। আর যখন আমি ৩য় সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন তিনি বললেন, ধ্বংস ওই ব্যক্তির যে বৃদ্ধ পিতা-মাতা উভয়কে বা তাদের একজনকে হায়াতে পেল, অথচ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। তখন আমি আমিন বললাম’ (মুসতাদরাকে হাকেম)।

বিজ্ঞাপন

প্রিয় পাঠক সমাজ, আমরা সকলে অবগত যে, অর্থনীতির একটি সূত্র যা ‘চাহিদা বিধি’ হিসেবে প্রসিদ্ধ। আর এ সূত্র মতে, ‘কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যের দাম কমলে তার চাহিদার পরিমাণ বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে’। ঠিক তদ্রূপ যখন কম কাজের বিনিময়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া যাবে, তখন মানুষ সে কাজটি বেশি বেশি করে থাকেন। হাফিজুল হাদিস, কুরআন গবেষক, ইলমে ফিকহ ও হানাফী মাযহাবের প্রবর্তক হযরত ইমাম আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত রহমাতুল্লাহ আলাইহি এর জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি মাহে রমজানে ৬১ বার কুরআনুল কারীম খতম করেছেন।

মাহে রমজানে আমরা পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায, ত্রিশটি ফরজ রোজা আদায়ের পাশাপাশি নানা সুন্নাত ও নফল ইবাদত আদায় করতে পারি।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে-
১. জামাতের সাথে ২০ রাকাত তারাবিহ সালাত আদায় করা।
২. বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা।
৩. নবীজীর ওপর দুরূদ-সালাম পাঠ করা।
৪. নফল নামায আদায় করা। (তাহাজ্জুদ, আওয়াবীন, ইশরাক ও চাশত)
৫. দান-সদকা করা।
৬. ইফতাদের সময় প্রতিবেশীদের অংশগ্রহণের দাওয়াত দেয়া।
৭. কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াত শোনা।
৮. ইসলামী বই-পুস্তক অধ্যয়ন করা।
৯. মানুষের সাথে কথা বলার সময় সুন্দর সুন্দর শব্দ ব্যবহার করা।

আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়া তা’আলা পবিত্র মাহে রমজানের পরিপূর্ণ রহমত, বরকত ও মাগফিরাত দান করুন ও ইবাদতের মাধ্যমে মাসটি কাটানোর তাওফিক দান করুন, আমিন।

Bellow Post-Green View