চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাস্ক না পরার প্রতিবাদ জানিয়ে ৩২ হাজার ডলার আয়!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কফি হাউজ স্টারবাকসের তরুণ শিল্পী লেনিন গুতেরেজ গ্রাহকের ফেসমাস্ক না পরার প্রতিবাদ জানিয়ে মাত্র তিন দিনে অনলাইন থেকে ৩২ হাজার মার্কিন ডলার অর্থ সংগ্রহ করে বাজিমাত করেছেন!

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর স্টারবাকস কফি হাউজে। লেনিন সেখানকার একজন কফিশিল্পী,কর্মচারী। তরুণ এই কর্মচারীর দায়িত্ব গ্রাহকদের কফি পরিবেশন করা। কিন্তু সেদিন নারী গ্রাহক অ্যাম্বার লিন গিলস কফি হাউজে এসে কফি চাইলে গুতেরেজ তাকে কফি পরিবেশন করতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ ওই মহিলা করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পরেননি। কিন্তু গুতেরেজের কফি পরিবেশেনে অস্বীকৃতির কারণে ক্ষেপে যান ওই মহিলা। রেগে গিয়ে তিনি ফেসবুকে লেনিন গুতেরেজের এমন আচরণের সমালোচনা করে স্ট্যাটাস পোস্ট করেন।

বিজ্ঞাপন

গিলস স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘স্টারবাকসের লেনিনকে দেখুন, আমি মুখে মাস্ক না পরায় যে কফি পরিবেশন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে! পরের বার আমি পুলিশের জন্য অপেক্ষা করব এবং একটি মেডিকেল ছাড়পত্র নিয়ে আসবো‘!

বিজ্ঞাপন

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন বলা হয়, এমন স্ট্যাটাসের বিপরীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয় ফেসবুকে। অধিকাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারী লেনিন গুতেরেজের সুদৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং গ্রাহক গিলসকে তিরস্কার করেন। এই স্ট্যাটাসে ১ লাখের বেশি প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য পড়ে এবং ৫০ হাজার শেয়ার হয়ে যায় নিমিষেই।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এভাবে একজনকে প্রকাশ্যে লজ্জা দেওয়ার কোনো কারণ নেই, যে কিনা শিফটে কাজ করার চেষ্টা করছে!

অন্য একজন লিখেন, আমি ওই কাউন্টারের পেছনে থাকা বাচ্চাটিকে দোষ দিচ্ছি না, সে মূলত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের কথা বলছে।

বিজ্ঞাপন

মূলত সান ডিয়েগো রাজ্য সরকার ১ মে থেকে এক নোটিশ জারি করে, যেখানে ফেসমাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। লোকজন জরুরি কাজে বের হলে এবং কোনো দোকানে কেনাকাটা বা রেস্টুরেন্টে গেলে বা পাবলিক চলাচলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

মূলত গুতেরেজের অবস্থান তাই এখানে সুদৃঢ়। অনেকে গুতেরেজের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাকে পুরস্কৃত করতে অর্থ সংগ্রহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

ম্যাট কাউয়ান নামের একজন গুতেরেজের সহযোগিতায় ‘গোফান্ডমি’ নামের ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম চালুর সিদ্ধান্ত নেন। কাউয়ান অনুদানের পেজের ট্যাগলাইন দেন, “টিপস ফর লেনিন স্ট্যান্ডিং আপ টু এ সান দিয়েগো কারেন‘! এর বর্ণনায় তিনি লিখেছেন, বিপরীত আচরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লেনিনের দৃঢ় অবস্থানের জন্য তার জন্য সম্মানজনক অর্থ সংগ্রহ করা‘।

এই প্রচারণার তিন দিনের মধ্যে তহবিলে মোট ৩২ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি জমা হয় ।

কেজিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে কাউয়ান বলেন, প্রত্যেকে যার যার করণীয় পালন করেছেন এবং একজনকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন। এতে প্রমাণ করে অনেক ভালো লোক রয়েছেন। মন্দ লোকের চেয়ে ভালো লোক বেশি।

ফেসবুকে লেনিন গুতেরেজ দারুণ এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং তিনি এই অপ্রত্যাশিত পুরস্কার নিয়ে বড় পরিকল্পনার কথা জানান।