চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাশরাফীদের ভাবনার বিষয় যেখানে

কয়েকঘণ্টা পরেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুদলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স টাইগারদের আত্মবিশ্বাসের পালে বেশ হাওয়া দিলেও কিছু কিছু বিষয় নিয়ে স্বস্তিতে নেই মাশরাফীর দল।

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর টানা তিন ম্যাচে জয়হীন মুশফিক-সাকিবরা। দুটি হারের পিঠে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে জিততেই হবে সোমবার। একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে উইন্ডিজও।

বিজ্ঞাপন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী পাওয়ার হিটিং আর পেস তোপের দলের বিপক্ষে সেরাটা বের করে আনতে সামর্থ্যের পূর্ণ প্রয়োগের পাশাপাশি নিজেদের ভুল কমিয়ে আনতে হবে বাংলাদেশকে। দেখে নেয়া যাক সেই চিন্তার জায়গাগুলো, যা বাড়তি ভাবনায় রাখবে টাইগার দলকে-

তামিম ইকবাল: যাদেরকে ঘিরে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দারুণ কিছুর স্বপ্ন দেখেছে তামিম ইকবাল তাদের মধ্যে অন্যতম। চলতি আসরে এখনো পর্যন্ত নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি টাইগার ওপেনার। তার অফ-ফর্ম বেশ ভাবাচ্ছে টাইগারদের! মারকুটে শুরুর সঙ্গে ইনিংস টেনে বড় করায় জুড়ি নেই তামিমের। মাঠের পারফরম্যান্সে তার সেই সামর্থ্যের প্রকাশ খুব করে দরকার বাংলাদেশের।

বিজ্ঞাপন

লোয়ার মিডলঅর্ডার: লোয়ার মিডলঅর্ডারে মোহাম্মদ মিঠুন রান পাচ্ছেন না। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ধারাবাহিকতা দরকার। সেখানে যে ভরসা, সেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও সেরাটা দিতে পারছেন না। সবমিলিয়ে লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতার বাংলাদেশের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা আগে ব্যাট করা আর পরে করা, দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেটে থাকায় যদি লোয়ার-ব্যাটসম্যানরা সফল হতে না পারেন, তবে না টপঅর্ডারের গড়ে দেয়া ভিত বড় সংগ্রহে যাবে, না দরকারে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংটা আসবে। এই জায়গায় দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো দরকার টাইগার দলের।

ছোট মাঠে বড় চ্যালেঞ্জ: টন্টনের মাঠটি তুলনামূলক ছোট। ফলে বাংলাদেশের বোলারদের ক্যারিবিয়ান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। গেইল-রাসেলরা যেন আয়েশে ছক্কা হাঁকাতে না পারেন, সেই চেষ্টা করতে হবে। মাশরাফী অবশ্য ছোট মাঠকে ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন। অধিনায়কের কথা, একই সুযোগ তো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্যও। তাতে অবশ্য টাইগার বোলারদের চ্যালেঞ্জটা কমছে না।

শর্ট বল জুজু: নিজেদের প্রথম ম্যাচে শর্ট বলে পাকিস্তানকে নাকাল করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গেলেও সেই ম্যাচেও আন্দ্রে রাসেল-ওসানে থমাসরা মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন বাউন্সারে। টন্টনে বাংলাদেশের জন্যও অপেক্ষা করছে শর্ট বল চ্যালেঞ্জ। যেখানে বাংলাদেশের দুর্বলতার কথা কারো অজানা নয়। এই জায়গায় কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে তামিম-সাকিবদের জন্য।

পাওয়ার হিটিংয়ের জবাব: বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টুয়েন্টি খেলোয়াড়দের মিলনমেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে। ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, শাই হোপরা মারকাটারি ক্রিকেটে একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন। এই পাওয়ার হিটারদের থামাকে হবে মিরাজ-মোস্তাফিজদের। হিটিং-শক্তির বিপক্ষে টাইগারদের রণকৌশল কী এবং প্রয়োগ কতটুকু হল বাংলাদেশের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে সেটিই। দরকারে পাওয়ারের বিপক্ষে পাওয়ার হিটিং ক্রিকেট খেলার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যনদের। নয়ত ম্যাচে এটি বড় পার্থক্য হয়ে দেখা দেবে।