চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাশরাফীদের কাছে পাত্তাই পেল না তারকা ঠাসা কুমিল্লা

রংপুরের টানা দুই জয়

দুই দলেই তারকা ক্রিকেটারের সমাহার। তার মধ্যে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান কয়েকজন। অথচ মঙ্গলবার মিরপুরে বিপিএলের রাতের ম্যাচটা হল ভীষণ ম্যাড়ম্যাড়ে! কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের দেয়া মাত্র ৬৪ রানের লক্ষ্য রংপুর রাইডার্স টপকেছে ১২ ওভার খেলে, হারাতে হয়েছে গেইলের উইকেট। কুমিল্লার মতো রংপুরের ব্যাটিংয়েও ছিল না টি-টুয়েন্টির উত্তাপ।

উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড থেকে অনাপত্তিপত্র পেতে বিলম্ব হওয়ায় দুই ম্যাচ বাইরে থাকা রংপুরের ওপেনার ক্রিস গেইল এদিন খেলতে নামলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। মাত্র ১ রান করে আবু হায়দার রনির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব।

বিজ্ঞাপন

মেহেদী মারুফ ও রাইলি রুশো ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট চালিয়ে ৯ উইকেটে জয় নিশ্চিত করেন। মারুফ ৩৬ ও রুশো ২০ রানে অপরাজিত থাকেন। প্রথম ম্যাচ হেরে শুরু করা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর টানা দুই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল।

বেলা সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়ায় ঢাকা ডায়নামাইটস ও খুলনা টাইটানসের ম্যাচটা ৭ ওভার আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বাড়তি কিছুটা সময় অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছিল রংপুর ও কুমিল্লার ক্রিকেটাররা। ড্রেসিংরুম থেকে ক্রিস গেইলকে ওয়ার্মআপের জন্য মাঠে নামতে দেখেই গর্জে ওঠেন গ্যালারির দর্শকরা। জম্পেশ একটি ম্যাচ উপভোগের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশার এক রাত উপহার দিয়েছে দু’দলের ব্যাটসম্যানরাই।

বিজ্ঞাপন

গেইল একাদশে থাকাতেই উপভোগের আকাঙ্ক্ষা বেড়ে দ্বিগুণ। কিন্তু বল মাঠে গড়াতেই নিরাশায় নিমজ্জিত হোম অব ক্রিকেট। টস হেরে আগে ব্যাট করা কুমিল্লা করতে পারে মোটে ৬৩ রান। গেইল ঝড় তুলে পাওয়ার-প্লে শেষ হওয়ার আগেই খেলা শেষ করে দেবেন, এমনটি ছিল অনুমেয়! কিন্তু এই ক্যারিবীয় দানবও যখন কুমিল্লার ব্যাটসম্যানদের মতো শুরুতেই উইকেট দিয়ে আসেন, তখন হতাশা প্রবল! শেষ পর্যন্ত ম্যাড়ম্যাড়ে একটি ম্যাচ দেখে অতৃপ্তি নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে মাঠের দর্শকদের।

পুরো ম্যাচে আকর্ষণীয় দিক ছিল রংপুর অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দুর্দান্ত বোলিং। ছোট সংস্করণে অধিনায়কের সেরা বোলিংয়ের ম্যাচ ছিল এটি। চার ওভারে ১১ রান দিয়ে শিকার করেন ৪ উইকেট। তামিম ইকবাল, এভিন লুইস, ইমরুল কায়েস ও স্টিভেন স্মিথকে আউট করেছেন এ পেসার।

আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে এটিই মাশরাফীর ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। আগের সেরা বোলিংটি ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১২ সালের জুলাইয়ে বেলফাস্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। আর বিপিএলে প্রথমবার পেলেন চার উইকেট, আগের বিপিএল সেরা ছিল ১৬ রানে ৩ উইকেট।

মাশরাফীর সামনে রীতিমত হাঁসফাঁস করেছে কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার তামিম (৪) ও লুইস ৮ রানের বেশি করতে পারেননি। ব্যর্থতা ধরে রেখে ইমরুলও ফিরেছেন মাত্র ২ করে। অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে রানের খাতাই খুলতে দেননি নড়াইল এক্সপ্রেস।

মাশরাফীর পাশাপাশি বিধ্বংসী ছিলেন রংপুরের অন্য বোলাররাও। ২০ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। দুই উইকেট নিয়েছেন আরেক পেসার শফিউল ইসলাম। অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজার শিকার এক উইকেট।

Bellow Post-Green View