চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাশরাফীকে অবসরের ‘হাতজোড়’ অনুরোধ বাংলাদেশের বোলিং কোচের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে অবসরের অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ ওটিস গিবসন। একইসঙ্গে টাইগারদের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়কের প্রতি এ ক্যারিবিয়ান বার্তা দিচ্ছেন, হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর ২০২৩ বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তিনি নেই!

গত ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান মাশরাফী। ২০১৮ সালের শেষ থেকে অবসরের গুঞ্জন থাকলেও এখনও সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি নড়াইল এক্সপ্রেস।

বিজ্ঞাপন

গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশের বোলিং কোচ হওয়া গিবসন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আগামী তিন বছরে তরুণ পেসারদের নিয়ে বিশ্বকাপ দল গড়তে আগ্রহী কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। মাশরাফীকে তার অনুরোধ এ সময়টাতে যেন তরুণদের আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর টোটকা বাতলে দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

‘তার দারুণ একটা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আছে। সে দেশ ও নিজেকে গর্বিত করেছে। আগামী ২০২৩ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যেকোনো কোচই নতুন করে দল গড়া শুরু করবেন। আমি একদম নিশ্চিত যে রাসেলের মাথায় কী চলছে। সে অবশ্যই হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, শফিউল ইসলাম, ইবাদত হোসেনের মতো পেসারদের দলে পেতে চাইবে।’

‘আমরা ইবাদতকে এখনো সাদা বলের ক্রিকেটে দেখিনি। এদিকে তাসকিন ও খালেদ আহমেদও ফিট হয়ে উঠেছে। আমাদের হাতে হাসান ও মেহেদী রানার মতো তরুণ বোলাররা আছে। এই দেশে অসংখ্য তরুণ ক্রিকেটার আছে।’

বিজ্ঞাপন

‘আমার মনে হয় রাসেল ভবিষ্যতের একটা দল গড়ছেন, সেখানে মাশরাফীর জায়গা কোথায় আমার জানা নেই। এবার মনে হয় তার সামনে হাঁটা উচিত। সে চাইলে অন্যভাবে তার অসাধারণ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারে। আমার মনে হয় না এসব জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়ার জন্য তাকে মাঠে উপস্থিত থাকতে হবে। সে চাইলে বিকল্প উপায়ে এসব বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।’

এই প্রথম কোচিং স্টাফদের কেউ মাশরাফীকে সরাসরি অবসরের অনুরোধ জানালেন। ২১৮ ওয়ানডেতে ২৬৯ উইকেট পাওয়া টাইগার পেসার কেবল ওয়ানডে ক্রিকেটই চালিয়ে যাচ্ছেন। গত বিশ্বকাপে নয় ম্যাচে মাত্র ১ উইকেট পাওয়ার পর মাশরাফীকে নিয়ে ওঠে অবসরের গুঞ্জন। তিনি এখনো এ বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। দুই পায়ে সাত অপারেশনের চিহ্ন নিয়ে গত পাঁচ বছরে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলা হয়নি তার, যার দুটি ছিল ওভার রেটের সাসপেনসনের খাড়ায়।

বাংলাদেশের তরুণ উঠতি পেসারদের নিয়ে বেশ আশাবাদী গিবসন। বিশেষ করে ঘরোয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টিতে দারুণ খেলা পেসার হাসান মাহমুদকে নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত তিনি।

‘আমি ইবাদতের ১৪০ কিলোমিটার বেগে বল করা দেখে মুগ্ধ। তাসকিনও আছে। তার সঙ্গে আমার মাঝে মাঝে কথা হয়। সে দলে ফেরার জন্য ক্ষুধার্ত। খালেদ বেশ কিছুদিন ধরে চোটের সমস্যায় আছে।’

‘তরুণ হাসান মাহমুদ আমাকে দারুণ মুগ্ধ করেছে। তার উপর আমার ভীষণ আস্থা আছে। সে ব্রেক-থ্রু এনে দিতে পারে এবং তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা পেসার হওয়ার সামর্থ্য আছে। তাকে নিয়ে আমি ভীষণ আশাবাদী। সে শেখার জন্য ক্ষুধার্ত। তার দারুণ বোলিং অ্যাকশন। এটাকে যদি আরও ভালো করা যায়, সামনের বছরগুলোতে আরও ভালো করবে বলে আশা করা যায়।’