চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় অমানবিক শাস্তির মুখোমুখি রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

সমুদ্রের অবিশ্বাস্য যাত্রায় বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি দল এখন মালয়েশিয়ায় নিষ্ঠুর শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে। তাদেরকে অভিবাসী আইনে সাত মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে কারাগারে অমানবিকভাবে রাখা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে এই অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

এপ্রিলে নৌকা যোগে অবতরণকারী ৩১ জন রোহিঙ্গা দলকে অভিবাসী আইনে দোষী সাব্যস্ত করে মূলত সাত মাসের জেল দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৯ জন নারী  ও কয়েকজন শিশুও আছে।

জুন মাসে দেয়া এই সাজাটিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল “নিষ্ঠুর ও অমানবিক” বলে নিন্দা জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির থেকে পালিয়ে যাওয়া  শরণার্থীদের বহনকারী  অনেক নৌকা তীর থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া নিন্দার মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো মুসলিম দেশ মালয়েশিয়ার এমন নিষ্ঠুর আচরণের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের শরণার্থী সম্মেলনে স্বাক্ষর না করার পরও দেশটিকে বিশেষত মুসলমান শরণার্থীর জন্য নিরাপদ দেশ হিসেবে দেখা হয়েছিলো। কিন্তু মালয়েশিয়া তার বিপরীতে আচরণ করছে।

শুধু রোহিঙ্গাদের ওপর নয় ইয়েমেনীদের ওপরও অমানবিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে।

এক ইয়েমেনী শরণার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গার্ডিয়ানকে বলছেন, কারাগারে অত্যন্ত অমানবিক ও অস্বাস্থ্যকর। সেখানে এক ভয়াবহ অবস্থা! কারাগারে ছোট্ট একটা কক্ষে অনেক মানুষের সাথে ঘেষাঘেষি করে রাখা হয়। যেখানে কিছু লোক অসুস্থ ছিলো। এমনকি অনেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলো। সেখানে আমাদেরকে প্রাণীদের মতো করে রাখা হয়।

আরেকজন শরণার্থী জানায়, তারা আমাকে তিন দিনের জন্য বিনা খাবার, পানীয় বা টয়লেট ছাড়া কারাগারে রেখেছিল। তারপর কারাগারের একটি কক্ষে নিয়ে যায়, যেখানে ২০০ জন বন্দি ছিলো।

তবে মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা  এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্বাস্থ্য-মহাপরিচালক ডা: নূর হিশাম আবদুল্লাহ বলেছেন, আটককৃতদের মধ্যে যারা করোনা আক্রান্ত তাদেরকে হাসপাতালে আলাদা করে রাখা হয়েছে। রোগীদের সংস্পর্শে আসাদের পৃথক করে বিশেষ সুযোগ সুবিধার মধ্যে রাখা হয়েছে।