চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ঢাকায় ফিরেছেন রায়হান

আল-জাজিরায় প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বক্তব্য দেয়ায় মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার হয় রায়হান কবির। পুলিশ তাকে আটক করে ২৭ দিন  রিমান্ডে রাখার পর চার্জ গঠন করতে পারেনি বলে তাকে ফেরত পাঠানো হয় বাংলাদেশে।

শুক্রবার রাত ১ টায় রায়হান কবির ঢাকায় বিমানবন্দরে আসেন। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকায় তার বাড়ি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মালয়েশিয়ায় পুলিশ তার সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করেনি জানিয়ে তিনি বলেন, দিনগুলো কেটেছে মানসিক চাপে। বিমানের টিকেটও পুলিশ কেটে দিয়েছে।

রায়হান ফিরে আসায় শান্তি এসেছে তার বাবা-মার  ভেতর। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশের পর উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে বৈধভাবে মালেশিয়া যান রায়হান কবির।

২০১৭ সালে কুয়ালামপুর টিএমসি ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ কোর্স শেষে ভর্তি হন এমবিএতে। লেখাপড়ার খরচ চালাতে কাজ নেন সেখানকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

করোনা মহামারি চলাকালে অভিবাসীদের প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় গত ২৪ জুলাই রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৪ দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর ৬ আগস্ট পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। পুলিশ ১৪ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ১৩ দিন মঞ্জুর করেন।

বুধবার রিমান্ড শেষ হওয়ার পর পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। এরপরেই ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠোনোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় তার বিমানের টিকিট করা হয়।

গত ৩ জুলাই আল-জাজিরার ইংরেজি অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ ইস্ট’ শীর্ষক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি লকডাউন চলাকালে দেশটির সরকারের নিপীড়ণমূলক আচরণের বিষয়টি উঠে আসে।

সেখানে দেখানো হয়েছে, কর্মহীন ও খাবারের সংকটে থাকা অভিবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাদের ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আল-জাজিরার ওই প্রামাণ্য প্রতিবেদনে মহামারি চলাকালে অভিবাসীদের আটক ও জেলে পাঠানোর মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে বক্তব্য দেন রায়হান কবির। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মালয়েশিয়ার পুলিশ তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে। ২৪ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশের ২১টি সংগঠনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানায় এবং অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করে আসছিল।