চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমধিক সুপরিচিত। বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ১৯৪৯ সাল থেকে। এ সম্পর্কে কখনও উষ্ণতার ছোঁয়া পেয়েছে, আবার কখনও শীতল হয়েছে।

বৈশ্বিক রাষ্ট্রসমূহের সম্পর্কের পারদ বিভিন্ন সময়ে উঠানামা করে থাকে। এটা স্বাভাবিক। এর পেছনে অবশ্য স্ব স্ব রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে কাজ করে থাকে। বাংলাদেশ সরকার সব সময়ে সম অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মার্শিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকেট বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হয়ে আসার পর দুদেশের মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ হতে পারে। আইএসএফের সাম্প্রতিক হিসাবে বিশ্বের এক নম্বর শক্তি হিসেবে চীনের উত্থান ঘটেছে তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকার ধরে অর্থনৈতিক ক্ষমতার শিরোমণিতে ছিল।

সম্প্রতি প্রথমবারের মতো কক্ষচ্যুত হয়েছে দেশটি। এখনও অধিকাংশ অর্থনেতিক সূচকে মানবসম্পদের সূচকে শিক্ষা ও জ্ঞান ও বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে অনেক গুণে এগিয়ে আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, খেলাধূলা ও সাহায্য সহযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি উদার মনোভাব দেখিয়েছিল।

তবে ইদানীং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকান ও সাব সাহারান রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক ভালো করছে। কিউবার সাথেও সম্পর্ক ভালো হচ্ছে।আবার মায়ানমারে গণতন্ত্র না থাকলেও এবং রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করলেও তাদের সাথে সম্পর্ক গভীর হচ্ছে।

আমাদের মুক্তিসংগ্রামের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে। কিন্তু দেশটির জনগণ, শিল্প সাহিত্য জগতের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আইন প্রণেতা ও দুঃসময়ে আমাদের মানুষজনের পাশে ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকাও পালন করেছেন।

তাদের এই ভূমিকার কথা বাংলাদেশের জনগণ কৃতজ্ঞতা চিত্তে স্মরণ করে থাকে। মুক্তিযুদ্ধ শেষে নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হলে, ১৯৭২ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

হেরাল্ড জার্নাল, সাময়িকীর ৯ এপ্রিল ১৯৭২ সংখ্যায় আমাদের জাতির জনক ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের লেখা চিঠিতে দেখা দেয় যে, দুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আসলে মার্কিন একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশ। সে হিসাবে অন্যদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভাবা তারা নাক গলাতে ইচ্ছুক নয়। অবশ্য হেনরি কিসিঞ্জার একদিন তলাবিহীন ঝুঁড়ি বলেছিলেন। অথচ আজ বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানিকারক দেশ।

সন্দেহ নেই, ভৌগোলিক ভুরাজনৈতিক এবং আর্থ সামাজিক সম্পর্কের কারণে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অন্যের জন্য সমমর্যাদা ভিত্তিতে গুরুত্ব বহন করে থাকে।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বকীয়তা নিয়ে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পিস কোর দুদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করেছিল। স্বাধীনতার পূর্বকাল থেকেই এ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সাহায্য ইউএসএইডের মাধ্যমে মূলত এসেছে। স্বাধীনতার পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাস থেকে আবার আর্থিক সাহায্য ও অনুদান বাংলাদেশে আসতে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য বৈদেশিক সাহায্য টাইড এইড হয়েছে। টাইড এইড হলে তার একটি বিশাল অংশের রাষ্ট্রের কাজে না লেগে দেশ থেকে চলে যায়।

পঞ্চাশ ষাট ও সত্তরের দশকে এদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষার্থীরা বিদেশ পড়াশোনা করতে এসেছে।আবার তারা দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে এ অঞ্চলে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারে সহায়তা করেছেন।আবার কৃষি ও শিল্পখাতে সে সময়ে এ অঞ্চলে পিছিয়ে থাকায় ইউএসএইডের আওতায় উন্নয়নের প্রয়াস নেওয়া হয়।

স্বাধীনতা উত্তরকালে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনুদান ও বৈদেশিক সাহায্য সম্প্রসারণ করে।তাদের এ তৎপরতা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরিতে প্রারম্ভিকভাবে কিছুটা হলেও কাজ করে। বস্তুত ১৯৭২ থেকে শুরু করে ১৯৯০- এর দশকের প্রথমার্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে মূলত বাণিজ্য এবং রেমিটেন্সের মধ্যে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু ১৯৯০ এর দশকে মধ্যম এসে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

২০০১ সালে সাইক্লোনের সময় ও ২০০৭ সালে সিডর ও আইলার সময় মার্কিন মেরিন সেনাদের সি অ্যাঞ্জেল ওয়ান এবং সি অ্যাঞ্জেল টু বাংলাদেশি সেনাদের সঙ্গে মিলে কাজ করেছেন মানবিক সহায়তার কার্যক্রমে।

ওদিকে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসায় সহায়তা দিয়েছে।দুদেশের সম্পর্কে অগ্রগতিতে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরকালে দুদেশের মধ্যে স্ট্যাটেজিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট সম্পাদিত হয়।

হিলারি ক্লিনটনের সময়ে অযাচিতভাবে ড. মুহম্মদ ইউনূস এদেশের বিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত হন। তবে জন কেরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হওয়ার পর কিছুটা সম্পর্ক ভালো হয়। ডিওফ্রেপিয়াট্ট (২০১২) অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, গত বিশ বছর ধরে বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মডারেট ও সেকুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র্র হিসেবে ৫-৬ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, দেশটির কয়েক মিলিয়ন লোক দারিদ্র্যের দুষ্টচক থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ এখন চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকা অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের জন্য দিক নির্দেশনা দিচ্ছে।

পিয়াট্টের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্য। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিন্ম আয়ের রাষ্ট্র থেকে মধ্য আয়ের রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। জাতিসংঘের স্বীকৃতি প্রয়োজন। গত সালে ছয় বছরে এদেশে মানব উন্নয়ন সূচকে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। এদেশে মোট জাতীয় সম্পদের গড় প্রবৃদ্ধির হার গত পাঁচ বছর ৬.১% থেকে ৬.৫% এর মধ্যে।

কড সুভাস খাশিলা ২০১২ সালে মন্তব্য করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতায় ভূকৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সহযোগী হিসেবে এ অঞ্চলে বাংলাদেশকে চায় তবে যারা জ্বালাও পোড়াও করে বিদেশ কংগ্রেসম্যানদের স্বাক্ষর জাল করার মত অপরাধ করে তাদের পক্ষে নিশ্চয়ই মার্কিন প্রশাসন কখনো থাকতে পারে না।

২০১৫ সালে এ অবস্থার অনেকখানি পরিবর্তন ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১২ ও ২০১৪ তে দু’দফা মায়ানমার সফর করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আফ্রিকা মহাদেশকে কৌশলত কারণে তুলনামূলকভাবে প্রাধান্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।এদিকে ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজায় দুর্ঘটনাসহ পোশাক খাতের আরও কিছু সমস্যা কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে দেওয়া জিএসপি ফ্যাসিলিটিজ সাসপেন্ড করেছে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি ফ্যাসিলিটিজের সুবিধা পুনর্বহাল করেননি।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্ট (টিকফা) স্বাক্ষরিত হয় যা চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। ইতোমধ্যে টিকফার কয়েকটি বৈঠকও হয়ে গেছে। যদিও টিকফায় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে, তবে জিএসপি নিয়ে প্রথম বৈঠকে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি।টিকফা চুক্তিতে ট্রান্সপারেন্সির কথা বলা হয়েছে।

এদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের পরিমাণ হচ্ছে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।এদিকে জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে মার্কিন বিনিয়োগ আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উন্নতমানের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ধিত শাখা বাংলাদেশে খুলতে পারে।আবার চিকিৎসা স্বাস্থ্য খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োহকারীরা আগ্রহ দেখাতে পারেন।

অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র সক্ষমতা অর্জনে আমাদের সহায়তা করতে পারে যা এদেশের মানুষের সামাজিক স্বস্তি অর্জনে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে।আসলে শিক্ষা স্বাস্থ্য জ্বালানি খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করতে পারে।ব্লু ইকোনমিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।

বর্তমানে এদেশে আমেরিকান চেম্বারের ২৫০ সদস্যের মধ্যে ৫০টি কোম্পানি ব্যবসা করছে। প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষভাবে ৫০০ এর মতো আমেরিকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এদেশে ব্যবসা করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কাটারপিলার জেনারেটর জিই গ্যাস টারবাইন, সিটি ব্যাংক এন এ, বভরণ/ইউনোকেল, কনকো ফিলিপস।

আবার বিভিন্ন রেষ্টুরেন্ট, স্বাস্থ্য ক্লাব, হিসাব নিরীক্ষা, ব্যক্তিগত সহায়তাকারী পণ্য, কাঁচসহ বাংলাদেশে আমেরিকান পণ্যের চাহিদা রয়েছে। কারগিলের মাধ্যমে কৃষিজাত পণ্য এদেশে এসে থাকে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে গুণগতমান সম্পন্ন ওষুধ রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কাজে লাগাতে পারলে এদেশের লাভ হবে।

জিএসপি ফ্যাসলিটিজ বন্ধ করার পরও বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি, ২০১৪ সালে যে পরিমাণ রপ্তানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে তা ২০০৯ সালে তিনগুণের কাছাকাছি।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিকাশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু বর্তমানে গড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে হলে ১৫.৬১% ডিউটি প্রদান করতে হয়। অথচ ভিয়েতনাম ৮.৩৮%, ইন্দোনেশিয়া ৬.৩৬%, জার্মানি ১.১৬%, ভারত ২.২৯, তুরষ্ক ৩.৫৩%, চীন ৩%, হংকং ১.২৫% দিচ্ছে। এ উচ্চ হারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক শিল্প প্রবেশ করে প্রতিযোগিতার অহেতুক বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ।

‘দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অ্যান্ড বাংলাদেশ টুওয়ার্ড দ্য ফিউচার ২০১৩ তে বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং উভয় দেশ ও বঙ্গোপসাগর এলাকার উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫৮তম বাণিজ্যিক অংশীদার। বস্তুত, আইটি খাত সম্প্রসারণ, আউটসোর্সিং এর কাজ অপ্রচলিত পণ্যসহ রপ্তানি বিভক্তিকরণ করা দরকার। সে দেশের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের দেশ থেকে কনজিউমার ডিউরেজ আগে করা উচিত। আর তাহলেই এদেশের জন্য মঙ্গল হবে।

২০১৪ সালের ২ এপ্রিল তৃতীয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনায় উভয় দেশের ডিফেন্সের সম্পর্ক নিয়ে আলোকপাত করা হয় এবং শান্তি উন্নয়ন এই অঞ্চরের জন্য গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এতে মেরিটাইম সিকিউরিটি বৃদ্ধি, জঙ্গিবাদ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শান্তিরক্ষা, আইনের প্রয়োগ, নন প্রলিপেরেশান, যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ ও বিনিময় এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা করা হয়। বস্তুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা আমাদের যেমন প্রয়োজন তেমনি ভূ-রাজনৈতিক কারণে তাদের এ সম্পর্কে উন্নত রাখতে হবে।

লরেঞ্চ সিমন নোহা (২০০৯) সালে মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক অবস্থা প্রাথমিক শর্ত হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রভাব বিস্তার করে। নীতিগত পরিবর্তন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সিনেটরদের সঙ্গে লবি করা এবং সর্বোপরি বহুমুখী সমজোতার উপর নির্ভর করে থাকে। আসলে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সম্পর্ক উন্নত করতে হলে দু’পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে এবং স্বাধীনতা রাষ্ট্রের স্বকীয়তা বজায় রেখে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশের অভিবাসীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। ট্যক্সি ড্রাইভার থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, চিকিৎসা, ব্যবসাসহ বহুবিধ হোয়াইট কালার লেবার এবং ব্লু কালার লেবার হিসেবে কাজ করছে।

অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিরা অভিবাসন যাতে সহজে পেতে পারেন সে জন্য ব্যবস্থা থাকা দরকার। আসলে অভিবাসীরা একটি দেশে গিয়ে সে দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি এবং বিকাশের জন্য কাজ করতে পারেন।বাংলাদেশি অভিবাসীরা তাদের মেধা মনন ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন। এদিকে বাংলাদেশ সম্প্রতি লুকির এ্যাট দি ইস্ট বা পূর্বনীতি গ্রহণ করেছেন।

এশিয়া-ভিত্তিক এই নীতি গ্রহণ করলে অবশ্যই তা সমতা ভিত্তিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কার্য করা যেতে পারে। প্রতিটি দেশের জন্য সমতাভিত্তিক বন্ধুত্ব নীতি আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গত চুয়াল্লিশ বছরে অনেক দূর এগিয়েছে।স্বাধনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তির সময়ে বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন যে, ২০২১ এর আগেই দারিদ্রসমা ১০% এর নিচে নামিয়ে আনা হবে। মানব উন্নয়ন এবং সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্কে সমতা বজায় রাখা দরকার।আর্থিক এবং সামাজিকভভাবে দুটো রাষ্ট্রকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।

ডিউটি আরোপের ক্ষেত্রে নমনীয়তা গ্রহণ করলে তা এদেশের পোশাক খাতের অগ্রগতি যেমন বেগবান করবে, তেমনি এ খাতে কর্মরত ৮০ শতাংশ নারী শ্রমিকের ভাগ্য উন্নয়ন সহায়তা করবে। তবে মানব পাচার বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের জন্য এদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

বিজিএমইএ ২০২১ সাল নাগাদ ৫০ বিলিয়ন পোশাকজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করতে চায়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদার মনোভাব প্রয়োজন। বাংলাদেশের ভৌত অবকাঠামো বিনির্মাণ, কাঠামো নির্মাণ, জ্বালানি বিদ্যুৎ শিক্ষা স্বাস্থ্য, সামরিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে সহযোতিা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমরা গ্রহণ করতে পারি। পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে দুটো দেশের একযোগে কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।

ইদানিং মানব পাচারের যে ঘৃণ্য সমস্যা এ রাষ্ট্র ব্যবস্থা কুড়ে কুড়ে কাচ্ছে সে ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়ন ক্রমিক বিবর্তনে আরও কার্যকারিতা পাবে বলে বিশ্বাস করি। আশাকরি, এ বন্ধন হবে অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বসুলভ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহুমাত্রিকভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে।

দুটো দেশের মধ্যকার উষ্ণ সম্পর্ক অবশ্যই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এবং সামাজিক অবস্থান বেগবান করবে। আর দরকার পরোপকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাসিলেটরের ভূমিকা কোন ধরনের চাপ নয়।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View