চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মারা গেছেন কিংবদন্তী নৃত্যশিল্পী অমলা শঙ্কর

মারা গেছেন কিংবদন্তী নৃত্যশিল্পী অমলা শঙ্কর। শুক্রবার কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ১০২ বছর।

শুক্রবার সকালে কিংবদন্তী নৃত্যশিল্পীর মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে জানান তাঁর নাতনি। বার্ধক্যজনিত নানান সমস্যায় ভুগছিলেন অমলা শঙ্কর।

বিজ্ঞাপন

শ্রীনন্দা থাকেন মুম্বাইয়ে। ফ্লাইট না থাকায় তিনি নানীকে শেষবার দেখতেও আসতে পারছেন না। সোশাল মিডিয়ায় তাই লেখেন, আজ ঠাম্মা চলে গেল আমাদের ছেড়ে, ১০১ বছর বয়সে। আমরা গত মাসেই ওঁনার জন্মদিন সেলিব্রেট করেছিলাম। মনটা বড্ড অশান্ত, মুম্বাই থেকে কলকাতা যাওয়ার কোনও বিমান নেই! উনার আত্মার শান্তি কামনা করি। একটা যুগের অবসান হল। অনেক ভালোবাসা ঠাম্মা। ধন্যবাদ সব কিছুর জন্য।

বিজ্ঞাপন

তিনি এমন একজন কিংবদন্তী নৃত্যশিল্পী ছিলেন, তাঁর দেখানো পথেই এগিয়েছেন গোটা বিশ্বের অসংখ্য নৃত্যশিল্পী। অমলা শঙ্করের নৃত্য পরম্পরায় সমৃদ্ধ বাংলার সংস্কৃতি।

তাঁর জন্ম ১৯১৯ সালের ২৭ জুন যশোর জেলায়। তখন তিনি ছিলেন অমলা নন্দী। মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই মঞ্চে নিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটানো শুরু করেন অমলা। ১৯৩১ সালে প্যারিস ইন্টারন্যাশনাল কলোনিয়াল এগজিবিশনে অংশ নিতে ফ্রান্সের রাজধানীতে পৌঁছেছিলেন অমলা। সেখানেই আলাপ উদয় শঙ্করের সঙ্গে। তার পর থেকেই উদয় শঙ্করের কাছ থেকে নাচের তালিম নেওয়া শুরু করেন তিনি। ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশে-বিদেশে। ১৯৪২ সালে গুরু উদয় শঙ্করের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন অমলা শঙ্কর। বিশ্বের অন্যতম চর্চিত নৃত্যুশিল্পী-দম্পতি হয়ে উঠেন উদয় শঙ্কর ও অমলা শঙ্কর। উদয় শঙ্কর পরিচালিত ছবি কল্পনা-তে উমার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অমলা শঙ্কর। ২০১২ সালে এই ছবি প্রদর্শিত হয় কান চলচ্চিত্র উৎসবে। অংশ নিয়েছিলেন অমলা শঙ্কর।

গেল জুন মাসেই নিজের ১০২ তম জন্মদিন পালন করেন এই কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে অমলা শঙ্করকে বঙ্গ বিভূষণ পুরষ্কারে সম্মানিত করা হয়৷ শেষবার অমলা শঙ্করকে মঞ্চে দেখা গিয়েছিল ২০১১ সালে। ৯২ বছর বয়সে ‘সীতা স্বয়ম্ভর’ নৃত্যনাট্যে অভিনয় করেছিলেন তিনি। রাজা জনকের চরিত্রে দেখা মিলেছিল তাঁর। সেই বছরই আরেকটি নৃত্যনাট্যে ‘মিসিং ইউ’তেও অংশগ্রহণ করেন তিনি।

নাচের পাশাপাশি আঁকতেও ভালোবাসতেন অমলা শঙ্কর। তবে কোনওদিন তুলি দিয়ে ছবি আঁকেননি তিনি। হাত দিয়েই ক্যানভাসে রঙ ভরতেন তিনি। তাঁর কিছু চিত্র ‘লাইফ অফ বুদ্ধ’ এবং ‘রামলীলা’র মতো নাটকে ব্যবহৃত হয়েছে।

তাঁর মৃত্যুতে একটা যুগের অবসান হল। তিনি রেখে গেলেন মেয়ে মমতা শঙ্কর,পুত্রবধূ তনুশ্রী শঙ্কর ও নাতনি শ্রীনন্দা শঙ্করকে। লেজেন্ডারি নৃত্যগুরু উদয় শঙ্করের ঘরানাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লালন করে চলেছেন তাঁরা।