চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মানুষের পাশে আরো বেশি দাঁড়ানোর এ সময়ে

২০ এপ্রিল চ্যানেল আই অনলাইনের ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে

একটি বিশেষ সময়ে বিশেষ একটি উপলক্ষে আজ আপনাদের সামনে কিছু কথা নিয়ে হাজির হয়েছি।  আপনারা সবাই, আমরা সবাই কঠিন এক সময় অতিক্রম করছি। করোনাভাইরাস নামে অদৃশ্য এক ঘাতক পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে নিচ্ছে, যেখান থেকে আমাদের রক্ষার একমাত্র উপায় নিজেরা সচেতন থাকা, ঘরে থাকা এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের করুণা প্রার্থনা করা। প্রতিনিয়ত আমি এবং আমরা বাংলাদেশ এবং পুরো বিশ্বকে প্রার্থনায় রেখেছি। আপনারাও তাই রেখেছেন। আজ যে বিশেষ উপলক্ষে আপনাদের সামনে উপস্থিত হওয়া; সেই উপলক্ষকেও সামনে রেখে আমরা আরো একবার মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আমাদের সকলের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করছি।

আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হওয়ার উপলক্ষ চ্যানেল আই অনলাইনের ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ। ২০১৫ সালের এদিন আমরা বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর প্রথমদিকের একটি হিসেবে আমাদের অনলাইন অপারেশন শুরু করেছিলাম। মানুষের আস্থার প্রতিদান হিসেবে টিভি হিসেবে চ্যানেল আই যেমন দেশ এবং বিশ্বে বাংলাভাষী মানুষের কাছে শীর্ষ টিভি চ্যানেল, তেমনি চ্যানেল আই অনলাইনও গত ৬ বছরে সবচেয়ে বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশের অনলাইন দুনিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। এজন্য আমি চ্যানেল আই এবং চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিটি কর্মীকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে শুদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যম হিসেবে চ্যানেল আই অনলাইনকে মানুষ যেভাবে গ্রহণ করেছে, সেজন্য আমি আমাদের পাঠক, দর্শক এবং পৃষ্ঠপোষকদেরও আরো একবার অভিনন্দন জানাই, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমরা আপনাদের আস্থার প্রতি সম্মান জানাতে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ যত্নবান থাকবো, সেই প্রতিশ্রুতি আরো একবার দিতে চাই।

বিজ্ঞাপন

গত চার দশক ধরে আমি গণমাধ্যম এবং উন্নয়ন সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত। এ সময়ে আমরা বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অনেক উত্থান-পতন দেখেছি, অনেক প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি; কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সাংবাদিকতায় আজ আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখে- সেটা যে হতে পারে, তা কখনো কারো দূরতম কল্পনাতেও কখনো ছিলো না। একদিকে নিজেদের সুরক্ষা, অন্যদিকে মানুষের তথ্য জানার যে স্বাভাবিক চাহিদা- সেটা পূরণে বাংলাদেশে গত দেড়মাস ধরে শুধু প্রতিটি দিন নয়, প্রতিটি ঘণ্টা এবং প্রতিটি মুহূর্তেই আমাদের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে আমরা শুরুতেই একটি তাৎক্ষণিক এবং কিছুটা মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা করতে পারার কারণে এমন চ্যালেঞ্জিং সময়েও সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতা মেনে মানুষের তথ্যের চাহিদার প্রায় পুরোটাই পূরণ করতে পারছি। নিশ্চয়ই আপনারা আমাদের টেলিভিশনের পর্দা এবং অনলাইনে তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার বেশ আগেই এরকম পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় নিয়ে কী হবে, আমরা তার একটা পরিকল্পনা করি। সেক্ষেত্রে আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের যে গাইডলাইন সেগুলো অনুসরণ করছি। সেটা ব্যক্তিগত সুরক্ষা থেকে সাংবাদিকতা, সব ক্ষেত্রেই।

সাংবাদিকতা যেহেতু এমন একটি পেশা, বিশেষ করে টেলিভিশন সাংবাদিকতা, যেখানে পুরোপুরি ঘরে বসে কাজ করা সম্ভব নয়- তাই আমরা প্রথমেই যেটা করেছি সেটা হলো যে কাজ ঘর থেকে সম্ভব সেটা হোম অফিসে পরিণত করা। এর অংশ হিসেবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আমাদের অনলাইন কর্মীরা পুরোপুরি ভার্চুয়াল অফিসে নিজ নিজ বাসা থেকে কাজ করছেন। অনলাইনের পাশাপাশি এমনকি আমাদের ডিজিটাল অপারেশনও হচ্ছে ভার্চুয়াল অফিস থেকে। তাদেরকে শুধু অফিসের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হচ্ছে। টেলিভিশনের একটি অংশকেও আমরা ভার্চুয়াল অফিসে পরিণত করেছি। আমরা আমাদের নিউজরুমে একটু চোখ মেললেই দেখতে পারছি, অফিসের কোন ওয়ার্ক স্টেশনে কে নিজের বাসা থেকে কোন রিপোর্টটি সম্পাদনা করছেন, কে টিকার এবং ব্রেকিং নিউজ দিচ্ছেন কিংবা কে কোন গ্রাফিক্স নিয়ে কাজ করছেন। এরকম অনেককিছুই হচ্ছে হোম অফিস থেকে।

বিজ্ঞাপন

তারপরও ট্রান্সমিশন এবং নিউজ কন্ট্রোলরুমের মতো এমন কিছু জায়গা আছে যেটা আগের মতোই পরিচালনা করতে হচ্ছে এবং হবে। অনেক ইন্টারভিউ আমরা ডিজিটালি করলেও রিপোর্টারদের একটি অংশকেও মাঠে যেতেই হচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মেনে আমরা আমাদের কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তারপরও ঝুঁকি থেকেই যায়। সেই ঝুঁকি নিয়ে আমাদের যে কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি আমরা ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।

এই যে ঝুঁকি নিয়েই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে, এর একটাই লক্ষ্য: সবসময়ের মতো বিশেষ এ সময়েও আপনার তথ্য জানার যে আকাঙ্খা সেটা পূরণ করা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এ তথ্য জানার বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন খবরের চেয়ে উড়ো খবর, বাস্তবতার চেয়ে গুজব এবং কাজের চেয়ে প্রচারণার বেশি ছড়াছড়ি তখন মানুষকে সঠিক তথ্য জানানোর বিষয়টি আরো বেশি সামনে এসেছে। একইসঙ্গে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষীয় ভুল কিংবা কর্তৃপক্ষের নজরে না থাকা বিষয়টি তুলে ধরে তাদেরকে সচেতন করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মানুষের জন্য যে সাংবাদিকতা করি, আজকের প্রেক্ষাপটে তা আরো বেশি প্রয়োজন। আমরা টেলিভিশনে এবং অনলাইনে সে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আপনারাও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন. গণমাধ্যমের সঠিক ভূমিকার জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে, আসছে এবং আসবে।

এ মুহূর্তের অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আমরা আমাদের চেষ্টা করে যাচ্ছি। চ্যালেঞ্জিং এ সময়ে আমরা আপনাদের আরো বেশি সমর্থন ও সহযোগিতা চাই। সেটা সাহস দিয়ে হোক কিংবা কোনো তথ্য জানিয়ে যেটা সরকারের এবং আমাদের নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

চ্যানেল আই অনলাইনের বর্ষপূর্তিতে সবাইকে আরো একবার শুভেচ্ছা জানাই। চলুন সচেতন থেকে বুকে সাহস রেখে আমরা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করি। মহান আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের সহায় হবেন। হৃদয়ে মাটি ও মানুষকে রেখে আমাদের সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা এ সময়টা পেরিয়ে আলোর একটা সকাল নিশ্চয়ই পাবো। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

(চ্যানেল আই অনলাইনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চ্যানেল আই’র পরিচালক ও বার্তা প্রধানের ভিডিও বার্তা থেকে)