চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Channeliadds-30.01.24Nagod

“মানুষের চেয়ে কি আইপিএল বড় হয়ে গেলো?”

অভিজাত ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আয়োজকেরা লাখ লাখ লিটার পানি খরচ করে মাঠ পরিচর্যা করায় নাখোশ মুম্বাই হাইকোর্ট।

“খরার দরুণ চরম দুর্দশায় পতিত রাজ্যটির বৃহৎ অংশ, সেখানে কিভাবে তারা মাঠের পিচ তৈরিতে লিটার লিটার পানি খরচের প্রস্তুতি নিচ্ছে? মানুষের চেয়ে কি আইপিএল বড় হয়ে গেলো?” আর তিনদিন পরেই শুরু হতে যাওয়া আইপিএলকে কেন্দ্র করে এক রিট আবেদনের শুনানিতে মহারাষ্ট্রের ক্রিকেট বোর্ডকে তিরস্কার করে এমনটাই বলেছে বোম্বে হাইকোর্ট।

শুক্রবার তারকায় পূর্ণ জমকালো উদ্বোধনীর পর শনিবার (৯ এপ্রিল) মাঠে গড়াবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও দামী এই টুর্নামেন্ট। মুম্বাই, পুনে ও নাগপুরে অনুষ্ঠিতব্য ১৯টি ম্যাচের জন্য ৬০ লাখ লিটার পানি খরচ হবে বলে এক হিসাবে জানিয়েছে পিটিশন দায়েরকারীরা। একে “অপরাধমূলক অপচয়” অ্যাখ্যা দিয়েছে আদালত।

এই সংক্রান্ত আবেদনের শুনানিতে আদালত ম্যাচগুলো খরাক্রান্ত মহারাষ্ট্র থেকে যে রাজ্যে পানির ঘাটতি নেই সেখানে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন। হাইকোর্ট বলেছে, “তোমরা কেমন করে এভাবে পানি অপচয় করতে পারো? মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ না আইপিএল? তোমরা কিভাবে এতটা উদাসীন থাকতে পারো? এইটা অপরাধমূলক অপচয়। তোমরা নিশ্চয় মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছ।

Reneta April 2023

এছাড়াও রাজ্য সরকারকে পানির অপচয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন আদালত এবং এজন্য তারা কী পরিকল্পনা করছে তাও আদালতকে অবহিত করতে বলেছেন। ক্রিকেট পিচে পানির ব্যবহার সংক্রান্ত শুনানি আগামীকালও অনুষ্ঠিত হবে।

তবে মহারাষ্ট্র ক্রিকেট সংস্থা (এমসিএ) তাদের জবাবে বলে, তারা ক্রয় করা পানিই ব্যবহার করছে এবং সেগুলো পানের অযোগ্য। আইপিএল চেয়ারম্যান রাজিব শুক্লা গতকাল বলেছিলেন, খরা দুর্গত মারাঠাওয়ারা অঞ্চলের মানুষের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। কিন্তু দুই-তিনটি মাঠের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সমস্যার সমাধান এনে দিবে না। সূচি অনুযায়ীই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।  

দক্ষিণ এশিয়ার বাঁধগুলোর নেটওয়ার্ক ‘নদী ও জনগণ’ এর সহযোগী সমন্বয়কারী পরিণিতা দান্দেকার বলেন, এমন প্রতিকুল সময়ে আমাদের একতার গুণে সংঘবদ্ধ হতে হবে। এখন সব ম্যাচের জন্য ৬০ লাখ লিটার পানি খেয়ে ফেলা আইপিএল আয়োজন, সুবিবেচনার পরিচায়ক নয়।

পুনে এবং নাগপুর তীব্র পানির ঘাটতির মুখে। মারাঠাওয়ারার রেইন শ্যাডো (শুষ্ক) অঞ্চলের অবস্থা আরও নাজুক। রাজ্যজুড়ে নদীগুলোর বাঁধের পানি মাত্র ২২ শতাংশে পানি রয়েছে, যেখানে মারাঠাওয়ারাতে মাত্র ৫ শতাংশ পানি রয়েছে। ১১ টি প্রধান বাঁধের মধ্যে ৭টিই শুকিয়ে গেছে।