চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মানুষকে খুব সহজেই আপন করে নিতে পারতেন মিজারুল কায়েস’

‘মিজারুল কায়েস একজন অসাধারণ কূটনীতিক ও নীতিবান মানুষ ছিলেন। মানুষকে খুব সহজেই আপন করে নিতে পারতেন তিনি। বাংলাদেশের অন্যতম চৌকষ ও বুদ্ধিমান কূটনতিক ছিলেন তিনি। তিনি চলে যাওয়ায় যে শূন্যস্থান তৈরি হলো, তা পূরণ হবার নয়।’

রাষ্ট্রদূত ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েসের স্মৃতিচারণ করে চ্যানেল আই অনলাইনকে তার সাবেক সহকর্মী ও একুশে টিভির বার্তা প্রধান রাশেদ চৌধুরী এসব কথা বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাবেক মিনিস্টার (প্রেস) রাশেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার মনে আছে, একদিন তিনি হাউজ অব কমন্সে বক্তৃতা করার সময় তিনি এত ভালো বক্তৃতা করেছিলেন যে, তাকে মোট ২০ মিনিট সময় দেয়া হয়েছিলো। যেখানে সবাইকে সাধারণত ১ বা ২ মিনিট সময় দেয়া হয়।’

‘কাজের সময় তিনি প্রায়ই আমাকে বিভিন্ন বিষয় দেখিয়ে দিতেন। খুব ভালো সম্পাদনার কাজ পারতেন। তিনি বলতেন চাকরি থেকে অবসর নিলে আমি সাংবাদিকতা করবো। ভীষণ আড্ডাবাজ মানুষ ছিলেন। যেখানে যেতেন, প্রায়ই আমাকে নিয়ে যেতেন। জানি না, মনে হয় আমাদের পছন্দ করতেন খুব।’ বলছিলেন রাশেদ চৌধুরী।

মিজারুল কায়েস সম্পর্কে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ তার ফেসবুক পাতায় লিখেন, ‘ব্রাজিলের আগে কায়েস লন্ডনে আমাদের হাইকমিশনার ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত সরকার তাকে মালদ্বীপে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাকে অবজ্ঞা ও অবহেলা দেখিয়েছিল। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে রাশিয়াতে রাষ্ট্রদূত হিসাবে বদলি করে তার যথাযোগ্য মূল্যায়ন করে। রাশিয়া থেকে তাকে ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো লিখেন, ‘তার অফিসের দেয়ালে বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে বঙ্গবন্ধুর একটি ছবি ছিল। এই পোট্রেটটি সরাতে তার উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্ত কায়েস আপোস করেনি। পরে তার অফিস কামরাটিই বদলে দেয়া হয়। নতুন অফিস-কামরায় যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধুর পোট্রেটটি নামাতে বাধ্য হয় সে।’

ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ছয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ সাবেক এ পররাষ্ট্র সচিবকে ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছিল।

ওই সময় তার অসুস্থতার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন তিনি।

ব্রাজিলে যাওয়ার আগে মিজারুল কায়েস বাংলাদেশের লন্ডন মিশনে হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

Bellow Post-Green View