চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধ: জামিন বাতিলের পর জুবায়ের মনির কারাগারে

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় সুনামগঞ্জের শাল্লার জুবায়ের মনিরের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

জুবায়ের মনিরের জামিন বাতিল চেয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন দুই বিচারপতির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আদালতে জামিন বাতিলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, মোখলেছুর রহমান বাদল, রিজিয়া সুলতানা চমন ও তাপস কান্তি বল। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।

বিজ্ঞাপন

আজকের আদেশের পর প্রসিকিটর তাপস কান্তি বল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,
‘মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামী
(মার্কিন নাগরিক) জুবায়ের মনিরকে অসুস্থতা বিবেচনায় মানবিক কারণে শর্তসাপেক্ষে গত ৯ ফেব্রুয়ারি জামিন দিয়েছিলেন। যেখানে শর্ত ছিল তিনি ঢাকার (বাড়ি নম্বর-১০২১, রোড নম্বর ১৭/১, বায়তুল আমান হাউজিং, আদাবর, মোহাম্মদপুর) এ ঠিকানায় অবস্থান করবেন। আর আদালতকে না জানিয়ে তিনি ঢাকার বাইরে যেতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্ট ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে হবে। এছাড়া কোনো মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলবে না। কিন্তু জুবায়ের মনির তার জামিনের এই শর্ত ভঙ্গ করে কুরবানির ঈদের আগে গোপনে নিজ এলাকায় চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ‘নৌবিহারে অংশ নেন এবং দলবল নিয়ে মহড়া দেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।’ এমন খবরের প্রেক্ষাপটে তার তার জামিন বাতিল চেয়ে গত ৫ আগস্ট ট্র‍্যাইব্যুনালে আবেদন করা হয়। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ ট্র‍্যাইব্যুনাল জুবায়ের মনিরের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’

এর আগে ২০১৯ সালের ১৭ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সুনামগঞ্জের ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। যেখানে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়। ১১ আসামীর মধ্যে সুনামগঞ্জের শাল্লা থানার দৌলতপুরের মোহাম্মদ জুবায়ের মনির (৬২), একই থানার ঘুংগিয়ারগাঁওয়ের মো. জাকির হোসেন (৬২), শশারকান্দার মো. সিদ্দিকুর রহমান (৬১), উজানগাঁওয়ের মো. তোতা মিয়া টেইলার (৮১), দিরাই থানার শ্যামারচর পশ্চিম দৌলতপুরের মো. আব্দুল জলিল (৭১) এবং মো. আব্দুর রশিদ (৬০) গ্রেপ্তার ও অপর পাঁচজন পলাতক বলে তখন উল্লেখ করা হয়।