চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মাটি বাঁচিয়ে রাখুন, মাটির জীববৈচিত্র্য রক্ষা করুন’

বিশ্ব মাটি দিবস আজ

‘কিপ সয়েল অ্যালাইভ, প্রটেক্ট সয়েল বায়োডাইভারসিটি’ অর্থাৎ ‘মাটি বাঁচিয়ে রাখুন, মাটির জীববৈচিত্র্য রক্ষা করুন’- এ স্লোগানে আজ শনিবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মাটি দিবস’।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশের আবাসস্থল হচ্ছে মাটি। সুস্থ মাটির একটি অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে মাটির জীববৈচিত্র্য। বিজ্ঞানের ভাষায় মাটির জীববৈচিত্র্য হলো মাটিতে বসবাসকারী উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবসহ জীবসম্ভার এবং সেগুলোর সমন্বয় গঠিত বাস্তুতন্ত্র। মাটিতে বসবাসকারী অসংখ্য অণুজীব, ছত্রাক, প্রটোজোয়া ইত্যাদি মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বর্তমান সময়ে মাটির জীববৈচিত্র্যতা হ্রাস একটি উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে মাটির উর্বরতা শক্তিও হ্রাস পাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে নিবিড় চাষাবাদ, অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ব্যবহার, শিল্প-কলকারখানার সম্প্রসারণ, নগরায়ন ইত্যাদি কারণে মাটির জীববৈচিত্র্য দিনদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে মাটিকে ভালোবেসে মাটির যত্ন করি, মাটির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করি। আমি আশা করি, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট দেশের ক্রমহ্রাসমান ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদের যৌক্তিক ও লাভজনক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আরও সক্রিয় হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, মাটির স্বাস্থ্যের সঙ্গে মানবস্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিবিড়। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশের কৃষি এখন খরপোশ কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে উত্তরণের ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত কৃষি পণ্যের গুণাগুণ বজায় রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, মাটির জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এর উর্বরতা বজায় রাখা দেশের ভবিষ্যৎ কৃষি উৎপাদনের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তিত বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতিতে টেকসই কৃষি উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখা ও মাটির জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাও দিবসটি উপলক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন বলেন, “মাটির জীববৈচিত্র্য আমাদের সকলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। মাটির জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য আমাদের অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি আমরা শীঘ্রই কাজ না করি, তবে মাটির উর্বরতা উদ্বেগজনক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে।’’

বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্য সুরক্ষা হুমকিরূপে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন: আমরা যদি মাটির যত্ন নিই তবে তা আমাদের দেখাশোনা করবে। এটি সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় আমাদের এবং ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য আমাদের সকলের ভূমিকা রয়েছে।

পৃথিবীর জীববৈচিত্রের মোট ২৫% এর সরাসরি আবাসস্থল হল মৃত্তিকা। মৃত্তিকার অনুজীব কর্মকাণ্ড মাটির গুনাগুন এবং কৃষি উতপাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া সারা পৃথিবীর জীব সমূহের প্রায় ৯০ ভাগই জীবনচক্রের কোন না কোন অংশ মাটিতে অতিবাহিত করে।

উদ্ভিদের জন্ম-বৃদ্ধিতে ও মানবকল্যাণে মৃত্তিকার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিতেই বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস নির্ধারণ করা হয়েছে। মৃত্তিকার সঠিক পরিচর্যার গুরুত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মৃত্তিকা বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন (আইইউএসএস) ২০০২ সালে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। পরে এটি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থার অনুমোদন লাভের পর প্রতিবছর ৫ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপিত হয়।

বিশ্বের প্রায় ৬০ হাজারের বেশি মৃত্তিকাবিজ্ঞানী এ দিবসটি সাড়ম্বরে পালন করে থাকেন। মৃত্তিকা সম্পর্কিত জ্ঞান বৃদ্ধি এবং তার প্রচার ও প্রসারের দায়িত্ব এই বিজ্ঞানীদের। বিশ্বের সব দেশে সুস্থ মৃত্তিকার সুফলকে উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন করে থাকেন।

বিজ্ঞাপন