চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মহাশূন্যে বানানো প্রথম বিস্কুট

এবার মহাশূন্যে বানানো হলো খাবার। চকোলেট চিপস বিস্কুটই বিশ্বের প্রথম খাবার, যেটা মহাশূন্যে তৈরি করা হয়েছে। মহাকাশচারীরা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (আইএসএ) বিশেষ জিরো গ্র্যাভিটি ওভেনে এই বিস্কুটটি বেক করেন।

গত ৭ জানুয়ারি স্পেসএক্স ড্রাগন স্পেসক্রাফটে আলাদা আলাদা বেকিং প্যাকেটে করে তিনটি বিস্কুট সেখান থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। এই পরীক্ষণের উদ্দেশ্য দীর্ঘ সময়ের সফরগুলোতে সেটাকে সমাধান হিসেবে ব্যবহার করা।

মহাকাশচারী লুকা পারমিটানো এবং ক্রিশ্চিনা কোচের করা এই পরীক্ষণের ফলাফল এই সপ্তাহে জানানো হয়। তবে সেগুলো খেতে কেমন, তা এখনো কেউ জানে না।

কুকি বানানোর মন্ডটা যারা সরবরাহ করেছিলো সেই ডাবল ট্রি প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র বলেন, বিস্কুটগুলো শিঘ্রই ফুড সাইন্স কর্মকর্তারা টেস্ট করে দেখবেন পরীক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল জানানোর জন্য। তারপরই বোঝা যাবে বিস্কুটগুলো খাওয়ার জন্য নিরাপদ কিনা।

বিজ্ঞাপন

পরীক্ষণের জন্য পাঁচটি বিস্কুট বেক করা হয়। ভিন্ন ভিন্ন দিনে বেক করা হয় রান্নার সঠিক তাপমাত্রা ও সময় জানার জন্য ।

পৃথিবীতে ১৫০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ২০ মিনিট মতো লাগে বেক করতে। সেখানে মহাশূন্যে সময় লাগে অনেক বেশি। প্রথমে ২৫ মিনিটে বানানো বিস্কুটটি কাঁচাই থেকে যায়। দ্বিতীয়টি বানানো হয় ৭৫ মিনিটে। সেটা আইএসএসে সুন্দর সুগন্ধ ছড়ায়। চতুর্থ ও পঞ্চমটি ১২০ মিনিটে বানানো হয়। পরে ২৫ মিনিট ঠাণ্ডা করার জন্য রাখা হয়। আর একটি বানানো হয় ১৩০ মিনিটে পরে ঠাণ্ডা করা হয় ১০ মিনিট। সেটাকেই সবচেয়ে সফল বিস্কুট ধরা হচ্ছে।

ডিসেম্বরে মহাকাশ থেকেই এক টুইটে নাসার বিজ্ঞানী মহাকাশে বিস্কুট বানানোর কথা লিখেন।
ন্যানোর‌্যাকস এবং জিরো জি কিচেনের বানানো প্রোটোটাইপ ওভেনে এই বিস্কুট বেক করা হয়। তারা লম্বা সময়ের স্পেস ফ্লাইটগুলোর জন্য মাইক্রোগ্র্যাভিটি যন্ত্রপাতি তৈরি করে।

গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া থেকে ওভেন ও বেকিং উপকরণ নিয়ে একটি কার্গো ক্রাফট ছেড়ে যায়। জিরো জি কিচেন এই ওভেনটিকে সিলিন্ড্রিকাল আকৃতির ইনসুলেটেড কনটেইনার ডিজাইনের ওভেন হিসেবে উল্লেখ করেছে যেটা খুব কম গ্র্যাভিটির পরিবেশেও খাবারের উপকরণ ধরে রাখবে ও বেক করবে। ওভেনটি ইলেক্ট্রিক হিটিং উপাদান দিয়ে খাবার গরম করবে যেমনটা টোস্টার ওভেনে করা হয়, এমনটাই জানিয়েছে কোম্পানিটি।

বিজ্ঞাপন