চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মহারণের মঞ্চে ইতিহাস কী বলছে?

বাংলাদেশ-ভারত

বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের। দুই ম্যাচের কোনটিতে হারলেই বাদ, জিতলেও থাকবে রানরেটের হিসাব-কিতাব, এমন সমীকরণ টাইগারদের সামনে। মঙ্গলবার ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের প্রথমটিতে কোহলিদের মুখোমুখি মাশরাফীরা।

ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয় বাংলাদেশের সেমিফাইনালের স্বপ্ন অনেকটা কঠিন হিসাবে ঠেলে দিয়েছে। অনেক যদি-কিন্তুর হিসাব মিলিয়ে তবেই শেষ চারে যেতে হবে। ভারত ও পাকিস্তানকে যদি হারাতে পারে বাংলাদেশ, আর নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে যদি ইংল্যান্ড হেরে যায়, তবে কোনো হিসাব ছাড়াই শেষ চারে যাবে মাশরাফীর দল। ইংল্যান্ড যদি নিউজিল্যান্ডকে হারায় তখন বাংলাদেশকে ছিটকে দিতে পারে রানরেটের হিসাব।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে চোখ রাখবে পাকিস্তানও। নিজেদের স্বার্থেই ইংল্যান্ড ম্যাচের মতো বাংলাদেশ ম্যাচেও চিরশত্রু ভারতের জয় প্রার্থনা করবে পাকিস্তানিরা। কেননা, বাংলাদেশ যদি ভারতের কাছে হেরে যায় এবং নিউজিল্যান্ড ইংল্যান্ডকে হারায়, তখন শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারাতে পারলেই সেমিতে যাবে সরফরাজের দল।

খেলাটা এখনও নিজেদের হাতে। আগের নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে। সে যাত্রায় ভারতের বিপক্ষে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে গত দুই ম্যাচে ভারতের পারফরম্যান্স, আর বাংলাদেশের ইংল্যান্ড আসরে ছুটে চলার ধরন, টাইগারদের আত্মবিশ্বাসী বাড়িয়ে দেবে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে দেখা গেছে টিম ইন্ডিয়াকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় রানের নিচে সংগ্রাম করতে হয়েছে বিরাট কোহলিদের। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং, তিন বিভাগেই সামর্থ্যের সেরাটা দিতে পারলে ভারতকে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন উজ্জ্বল রাখতে পারবে টিম টাইগার্স।

সাত ম্যাচের তিনটিতে জয় ও সমান হারের পাশাপাশি একটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ম্যাচের এক পয়েন্টের সুবাদে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয় নম্বরে অবস্থান বাংলাদেশের। সাউথ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় তুলেছে মাশরাফীর দল। হেরেছে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে। শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি ভাসিয়ে নেয় বৃষ্টি।

অন্যদিকে সাত ম্যাচের পাঁচটিতে জেতা ভারত সপ্তম ম্যাচে এসে ইংল্যান্ডের কাছে হারের স্বাদ পায়। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে তাদেরও। ১১ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে থাকা কোহলির দল নেট রানরেটের ভালো অবস্থানের কারণে কার্যত সেমিতে এক পা দিয়ে রেখেছে। ভারত একে একে সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকে হারিয়েছে। নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি বৃষ্টির পেটে যায়।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য। ৩৫ বারের সাক্ষাতে টিম ইন্ডিয়ার ২৯ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় ৫টিতে। অন্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানও কিছুটা এগিয়ে রাখছে ভারতকে। তিনবারের দেখায় বাংলাদেশকে দুবার হারিয়েছে দুবারের চ্যাম্পিয়নরা। তবে বিশ্বকাপের প্রথম সাক্ষাতে জয়ী দলটির নাম বাংলাদেশ। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের প্রথম সাক্ষাতে ৫ উইকেটে জিতে ভারতকে গ্রুপপর্ব থেকেই বাড়ির বিমান ধরিয়ে দিয়েছিল তরুণ সাকিব-তামিম, মুশফিকদের দল।

তবে বিশ্বকাপের পরের দুই সাক্ষাতে সহজেই জয় পায় ভারত। ২০১১ বিশ্বকাপে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে টিম ইন্ডিয়ার কাছে ৮৭ রানে হেরে যায় টাইগাররা। ২০১৫ বিশ্বকাপে মেলবোর্নে ভারতের জয়টি ১০৯ রানের। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই জয়টিতে অবশ্য বিতর্কে ঠাসা ছিল বাজে আম্পায়ারিংয়ের কারণে, যার বেশিরভাগই গিয়েছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে।

বিজ্ঞাপন

মাঠের পারফরম্যান্সে বিস্তর ফারাক থাকলে বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি হওয়া মানেই চরম উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে সহজেই হারালেও রোহিত শর্মা রুবেল হোসেনের ‘নো’ বলে বিতর্কিতভাবে বেঁচে না গেলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো! সেই বিশ্বকাপের পর ভারতকে ঘরের মাঠে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে যন্ত্রণা কিছুটা লাঘব করেছে টাইগাররা।

বাংলাদেশ ও ভারতের সর্বশেষ লড়াইও উত্তেজনা-রোমাঞ্চই উপহার দিয়েছে ক্রিকেটবিশ্বকে। মরুর দেশ আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশের ২২২ রান তাড়া করতে নেমে শেষ বল পর্যন্ত খেলতে হয়েছে টিম ইন্ডিয়াকে। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাই সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হবে বলেই বিশ্বাস সমর্থকদের।

ভারত চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত দুটি ম্যাচ চোখে আঙুল দিয়ে কোহলিদের দুর্বলতা দেখিয়ে দিয়েছে। মিডল ও লোয়ার অর্ডারে বেশ দুর্বলতা রয়েছে টিম ইন্ডিয়ার। সেই সুযোগ কাজে লাগবে যদি মোস্তাফিজ-মাশরাফী-সাইফউদ্দিনরা ভারতের টপঅর্ডার নড়বড়ে করে দিতে পারেন, তখন দারুণ কিছুর স্বপ্ন খেতেই পারে বাংলাদেশ।

বার্মিংহামের পিচে ব্যাটসম্যানরা বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে মনে হচ্ছে। ফলে দুই দলই ব্যাটিংয়ে শক্তি বাড়িয়ে একাদশ সাজাতে পারেন। তবে জিততে হলে সব বিভাগেই ভালো করতে হবে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

নজর থাকবে যাদের উপর
মোস্তাফিজুর রহমান: ভারত বরাবরই মোস্তাফিজুর রহমানের প্রিয় প্রতিপক্ষ। প্রতিবেশী দেশটিকে পেলেই জ্বলে ওঠেন কাটার মাস্টার। ২০১৫ সালে মোস্তাফিজের বোলিং নৈপুণ্যেই ওয়ানডে সিরিজে টিম ইন্ডিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারায় টাইগাররা। সেবার হোম সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫০ রানে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। সেটিই ছিল আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে বাঁহাতি পেসারের প্রথম ম্যাচ। পরের ম্যাচে আরও বিধ্বংসী রূপে ধরা দেন ফিজ, এবার ৪৩ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন। গত এশিয়া কাপের ফাইনালে ১০ ওভারের স্পেলে মাত্র ৩৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মোস্তাফিজ আবারও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলে রোহিত, কোহলিদের কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে।

রিশভ পান্ট: ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে রিশভ পান্টের। ভারতের বিশ্বকাপ দলে প্রথমে ছিলেন না, শেখর ধাওয়ান ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়লে স্কোয়াডে যোগ দেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৯ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলেছেন। বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য আছে, বাংলাদেশের বিপক্ষে মুহূর্তেই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দিতে পারেন অপার সম্ভাবনার জানান দিয়ে রাখা ভারতের এ স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান।

টিম নিউজ
ইনজুরির কারণে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভারতের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না সেটি ম্যাচের আগেরদিন বলেছেন নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। তার জায়গায় সাব্বির রহমানকে একাদশে জায়গা দিতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। এছাড়া একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে আরেকটি, মেহেদী হাসান মিরাজকে বসিয়ে রুবেল হোসেনকে নিয়ে চার পেসারে সাজতে পারে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে বিজয় শঙ্কর ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়ায় তার জায়গায় মায়াঙ্ক আগারেওয়ালকে স্কোয়াডে যোগ করা হলেও বাংলাদেশ ম্যাচে তাকে বেঞ্চেই থাকতে হবে। রিশভ পান্ট যথারীতি একাদশে জায়গা ধরে রাখবেন। ব্যাটিংয়ে শক্তি বাড়াতে যুজবেন্দ্র চাহাল কিংবা কুলদীপ যাদব- এই দুজনের একজনকে বসিয়ে রবীন্দ্র জাদেজাকে একাদশে নিতে পারে টিম ইন্ডিয়া।

সম্ভাব্য একাদশ
বাংলাদেশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ/রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও মোস্তাফিজুর রহমান।

ভারত: রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, রিশভ পান্ট, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, কুলদীপ যাদব, মোহাম্মদ সামি, যুজবেন্দ্র চাহাল/রবীন্দ্র জাদেজা ও জাসপ্রিত বুমরাহ।

Bellow Post-Green View