চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মহামারি নির্মূলে উজ্জ্বল সাফল্য অব্যাহত থাকুক

মহামারি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। এই কঠিন করোনাকালে দ্রুত ভ্যাকসিনেসন করোনাকে অনেকখানি ঠেকিয়ে দিতে পেরেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত মৃত্যুর মিছিল দেখা যায়নি এখানে।

স্বাধীন বাংলাদেশে গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ রোগ নির্মূল এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশে কলেরা, ডায়রিয়া, গুটিবসন্ত, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, টাইফয়েড, কালাজ্বর, কুষ্ঠ, জলাতঙ্ক, ধনুষ্টংকার, হামের প্রকোপ ছিল। এইসব অসুখে বহু মানুষের মৃত্যু হতো। যেটা এখন আর দেখা যায় না। একসময় যে রোগ সারা দেশে দেখা যেত এখন তা দেখা যাছে একটি বা দুটি জেলায়। সরকারের নীতি, কর্মপরিকল্পনা, প্রকল্প, সরকারি-বেসরকারি নিবেদিতপ্রাণ মাঠকর্মী এবং জনসচেতনতার কারণে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। কলেরা বা ডায়রিয়াজনিত রোগ একসময় মহামারি আকারে দেখা দিত। কিন্তু আজকাল কলেরা বা ডায়রিয়ায় মানুষের মৃত্যুর খবর খুব একটা শোনা যায় না। ডায়রিয়া হলে কী করতে হবে মানুষ জানে। জনগণের সচেতনতা বেড়েছে। আরও অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে একই দৃশ্য দেখতে পাই। পুরোনো রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সাফল্য দেখিয়েছে। আবার সোয়াইনফ্লু, বার্ডফ্লু, নিপাহ ভাইরাসের মতো নতুন রোগের প্রকোপ দেখা দিলে তা দ্রুততার সঙ্গে শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা স্বাস্থ্য বিভাগের আছে। সারা বিশ্বের সঙ্গে হাতে হাত ধরে মহামারির সঙ্গে যুদ্ধ করছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার একজন পরিচালক জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও পরিকল্পনার কারণে অনেক রোগ নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের যেকোন উদ্যোগকে সফল করতে মানুষ সহায়তা করেছে। সব সময় পাশে থেকেছে উন্নয়ন–সহযোগীরা। একসময় ৬৪ জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ থাকলেও এখন তা নেই। গত দুই দশকে দ্রুত ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমে আসতে দেখা গেছে। ম্যালেরিয়া এখন মূলত তিন পার্বত্য জেলাতেই সীমাবদ্ধ। সরকারি হিসাবে ২০২০ সালে দেশে ম্যালেরিয়ার রোগী ছিল ৬ হাজার ১৩০ জন। এর মধ্যে মারা যান ৯ জন। ম্যালেরিয়ার জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল হওয়ার কথা। একইভাবে সাফল্য এসেছে কালাজ্বর নির্মূলের ক্ষেত্রে। ২০১৭ সালের মধ্যে দেশ থেকে কালাজ্বর নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালেই সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়। একসময় দেশের ১৯টি জেলায় ফাইলেরিয়া বা গোদরোগের প্রকোপ ছিল। বর্তমানে রংপুর ছাড়া অন্য সব জেলা ফাইলেরিয়ামুক্ত। বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যত কুষ্ঠরোগ নির্মূল হয়েছে। ২০০৮ সালে ৫ হাজার কুকুরকে টিকা দেয়ার মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যুও কমেছে। এসব রোগের প্রকোপ যেসব এলাকায় বেশি ছিল, সেখানে পাঁচ দশক ধরে অবহিতকরণ সভা, উঠান বৈঠক, গোলটেবিল বৈঠক, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, পোস্টার, প্রচারপত্র, স্টিকার, বর্ষপঞ্জিকা, মাইকিংয়ের মাধ্যমে সরকার মানুষকে তথ্য ও বার্তা দিয়েছে, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে। প্রতিটি রোগের ক্ষেত্রে জাতীয় কর্মসূচি ছিল বা আছে। এই কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়েছে দেশব্যাপী বিস্তৃত স্বাস্থ্য অবকাঠামো। আর প্রতিটি কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন বা আছেন নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যকর্মীরা। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি জনসচেতনতা রোগনিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে বড় ভূমিকা রেখেছে।

করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। টিকা দান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে এই ক্ষেত্রেও আসবে সাফল্য। জনগণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে মহামারি নির্মূলে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। গত কয়েকদশক সরকারও তৎপর ছিল স্বাস্থ্যখাতের উন্নতিতে। অনেক সমস্যা সংকট দুর্নীতি পার হয়েও বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। আমরা মনে করি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।