চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মহানায়িকা সুচিত্রার ৫ম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা

প্রয়াণ দিনে জন্মভিটা পাবনায় স্মরিত হচ্ছেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন

‘বাংলা চলচ্চিত্রে চিরদিনের, চিরকালের অবিস্মরণীয় এক বিস্ময় মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। বাঙালির নস্টালজিয়ার আরেক নাম। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে জানাই আমার প্রণাম।’

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৫ম প্রয়াণ দিবসের সকালে কথাগুলো নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে শেয়ার করেছেন এই মুহূর্তে কলকাতার সবচেয়ে জনপ্রিয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জী।

শুধু সৃজিত মুখার্জীই নন, সুচিত্রা সেনের প্রয়াণ দিনে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন প্রতিটি সিনেমা ভক্ত বাঙালি। তার স্মরণে বৃহস্পতিবার তার জন্মস্থান পাবনায় হচ্ছে বিশেষ আয়োজন। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি মৃত্যু বরণ করেন সুচিত্রা।

তার মৃত্যুর পর এই দিনটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ যৌথভাবে তার পৈতৃক ভিটা এবং কৈশোরের বিদ্যাপিঠ পাবনা টাউন গার্লস হাই স্কুল প্রাঙ্গণে স্মরণ সভার আয়োজন করে। এবারও হলো না তার ব্যতিক্রম। এ ছাড়া সুচিত্রা সেন অভিনীত সিনেমা এবং সুচিত্রার ঠোঁট মেলানো সংগীত পরিবেশনের আয়োজন করেছে কয়েকটি সংগঠন। জেলা প্রশাসক মহানায়িকার পৈতৃক বাড়ি সংস্কার করে সুচিত্রা সংগ্রহশালা তৈরি করেছে। এ সংগ্রহশালাকে আধুনিক আর্কাইভ করার দাবি জানিয়েছেন জেলার সংস্কৃতিসেবীরা।

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনায় সুচিত্রা সেনের জন্ম। শহরের গোপালপুর হেমসাগর লেনের একতলা পাকা পৈতৃক বাড়িতে তার শৈশব-কৈশোর কাটে। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত পাবনা মিউনিসিপ্যালিটির স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে চাকরি করতেন। মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত ছিলেন গৃহিণী। মা-বাবার পঞ্চম সন্তান ছিলেন সুচিত্রা। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের ক’মাস আগে করুণাময় দাশগুপ্ত সবকিছু রেখে সপরিবারে ভারতে পাড়ি দেন।

শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে সময়কে জয় করার জন্য প্রতিটি দশকে থাকে সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা শিল্পী। তার প্রতিভা আর মেধা দিয়ে তিনি অন্যদের থেকে এগিয়ে যান, সমকালিন সময়কে উতরিয়ে তিনি পৌঁছে যান অদূর ভবিষ্যতের কোনো জৌলুসময় গন্তেব্যে। তিনিই মহৎ শিল্পী। তারপর হয়তো সময়ই তাকে মহা নায়িকা, মহা শিল্পী, কিংবদন্তি ইত্যাদি নামে অবিহিত করে। বাংলার মহা নায়িকা খ্যাত সুচিত্রা সেনও তেমনি একজন। নিজের সৃজনক্ষমতায় অভিনয় দিয়ে তিনি শুধু তার সমকালিন সময়ের গণ্ডিই অতিক্রম করেননি, বরং পৌঁছে গেছেন আরো দূর। বহুদূরের পথে। যে পথ সত্যি সত্যিই শেষ হওয়ার নয়…! মৃত্যুদিনে এই মহানায়িকার জন্য শ্রদ্ধা।