চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মরিনহোকে হারের ‘গুরুদক্ষিণা’ দিলেন ল্যাম্পার্ড

গুরু-শিষ্য মুখোমুখি। ডাগআউটে। চেলসির কোচ ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড আর টটেনহ্যাম হটস্পারের দায়িত্বে হোসে মরিনহো। দুজনে মিলে অতীতে কত ম্যাচ জিতিয়েছেন চেলসিকে। সেই গুরু যখন এসেছেন তাকে তো কিছু উপহার দিতেই হয়! ল্যাম্পার্ডও দিলেন। সেটা হার! সাবেক শিষ্যের দল চেলসির কাছে ২-১ গোলে হেরে বিষণ্ণ মুখে ফিরতে হয়েছে একটা সময় ব্লুজদের বিশ্বব্যাপী পরিচয় করিয়ে দেয়া কোচ মরিনহোকে।

আগেও বিপক্ষ দলের কোচ হয়ে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ঘুরে গেছেন মরিনহো। পেয়েছেন ভালোবাসা, দুয়ো, দুটোই। সেই ম্যাচগুলো থেকে শনিবারের ম্যাচটা একদম আলাদা। আলাদা করে দিলেন একজন- ল্যাম্পার্ড! চেলসিতে একসময় মরিনহোর প্রিয় ছাত্র এবার নিজেই ডাগআউটে দাঁড়িয়ে কষলেন গুরুকে হারানোর মারপ্যাঁচ। ঠিক একটু দূরে দাঁড়িয়ে তার সাবেক গুরু দেখলেন ফুটবলীয় কৌশলে কতটা এগিয়ে সাবেক শিষ্য!

বিজ্ঞাপন

গুরু-শিষ্যের লড়াই ছাপিয়ে শনিবারের ম্যাচটার গুরুত্ব ছিল অন্য আরেক ক্ষেত্রেও। আগামী দুই মৌসুম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ম্যানসিটি নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানকে দখলে পেতে বিপুল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েছে টেবিলের ছয় থেকে দশে থাকা দলগুলো। বর্তমানে টেবিলের দুইয়ে থাকা ম্যানসিটি না খেলায় আগামী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার সুযোগ পাবে প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম স্থানে থাকা দলটি। সেই উত্তপ্ত অবস্থানেই বসা টটেনহ্যাম।

চেলসির কাছে হেরে স্পাররা নিজেদের জায়গা আপাতত ধরে রাখলেও আরেক ম্যাচে ব্রাইটনকে হারাতে পারলেই পঞ্চম স্থানে উঠে আসবে শেফিল্ড ইউনাইটেড। ছয়ে নেমে যাবে মরিনহোর দল। ২৭ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪০, শেফিল্ডের ৩৯। টেবিলের সাত, আটে থাকা ম্যানইউ আর উলভার হ্যাম্পটনরাও খুব একটা পিছিয়ে নেই। জিতে চারে থাকা চেলসি ৪৪ পয়েন্টে মোটামুটি নিজেদের অবস্থান শক্ত করেই ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন

স্ট্যামফোর্ডে যে ম্যাচটা হারতে পারেন মরিনহো সেটা অনুমান করা যাচ্ছিল তার দল দেখেই। মূল দুই ফরোয়ার্ড হ্যারি কেন ও হিউন মিন-সন মাঠের বাইরে চোটের কারণে। করোনা ভাইরাস নিয়ে ব্যঙ্গ করা ডেলে আলি দলে থাকলেও মরিনহো তাকে নামালেন ৭৮ মিনিটে, ততক্ষণে ম্যাচ হারা নিশ্চিত হয়ে গেছে সফরকারীদের।

অন্যদিকে ল্যাম্পার্ডের এতশত ঝামেলা ছিল না। তারুণ্যে ভরা দলটাকে খেলালেন তার মতো করেই। ফলাফল মিলল ১৫ মিনিটে।

ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জর্জিনহো প্রথমে শট নিয়েছিলেন জাল বরাবর, স্পার গোলরক্ষক হুগো লরিস তা ফিরিয়ে দিলেন। ওঁত পেতে ছিলেন ফরোয়ার্ড রস বার্কলি, তিনিও নিলেন শট, লরিস হতাশ করলেন তাকেও। দ্বিতীয়বারের মতো যখন বল লরিস দেয়ালে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরল, তখন ডি-বক্সের ১০ গজ দূরত্বে দাঁড়িয়ে অলিভিয়ের জিরুদ। তার হাফভলি এবার আর ফেরাতে পারেননি স্পার গোলরক্ষক।

এরপরও সুযোগ ছিল মরিনহোর। বিরতি থেকে ফিরে সেটাও বন্ধ করে দিলেন মার্কোস আলোনসো। জিরুদ, ম্যাসন মাউন্ট ও রস বার্কলি মিলে তাকে স্পটকিকের সুযোগ বানিয়ে দিয়েছেন। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ফ্রি-কিক থেকে ৪৮ মিনিটে করেছেন দলের দ্বিতীয় গোলটি।

দুই গোলে পেছানো গুরুকে আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ দিতে চাননি ল্যাম্পার্ড। পরে মরিনহোর বোঝা লাঘব করেছেন অ্যান্টনি রুডিগার। ৮৯ মিনিটে চেলসি ডিফেন্ডার নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দিলে সান্ত্বনার এক গোল নিয়ে ফেরে টটেনহ্যাম।