চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মরমি গানের কিংবদন্তী আবদুল গফুর হালী আর নেই

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মরমি গানের কিংবদন্তী আবদুল গফুর হালী আর নেই। বুধবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নগরীর সার্সন রোডে মাউন্ট হাসপাতালে তিনি মারা যান।  গফুর হালীর মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বহুদিন ধরে হালী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত দুই মাস ধরে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও অসংখ্য ভক্ত-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

গফুর হালীর মরদেহ বুধবার নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির পিএইচপি হাইটসে রাখা হবে। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে প্রথম নামাজের জানাজা, জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজা এবং শুক্রবার নিজ গ্রাম পটিয়ার রশিদাবাদ ইউনিয়নের শোভনদণ্ডীতে বাদ জুমা তৃতীয় ও শেষ নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

আবদুল গফুর হালী ৬০ বছর ধরে একটানা গান লিখেছেন।  চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মাইজভাণ্ডারি গানের কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী। শেফালী ঘোষ, সন্দীপন, শিরিনসহ অনেক শিল্পীর উত্থান গফুর হালীর গান গেয়ে। হালীর গান নিয়ে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাগ্রন্থ।

শিল্পী শেফালী ঘোষের গাওয়া ‘ও শ্যাম রেঙ্গুম ন যাইওরে’, সন্দীপনের কণ্ঠে ‘সোনাবন্ধু তুই আমারে করলিরে দিওয়ানা’, শিরিনের কণ্ঠে ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ ও ‘মনের বাগানে ফুটিল ফুলরে’ এবং কল্যাণী ঘোষের গাওয়া ‘দেখে যারে মাইজভাণ্ডারে হইতেছে নুরের খেলা’- এমন অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা আবদুল গফুর হালী। তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত শিল্পী শেফালী ঘোষের সঙ্গীতগুরু।