চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মন খারাপের যে গাড়িতে শাকিল

‘খেরোখাতার পাতা থেকে’ অক্ষর অক্ষর এক হয়ে মন খারাপের শব্দ, মন খারাপ করা শব্দগুলো বৃত্ত বৃত্ত হয়ে ‘মন খারাপের গাড়ি’।

‘কবিতা দিয়ে আমি নিজের সঙ্গে কথা বলি, সবার সঙ্গে কথা বলি। সেসব কথোপকথনই তুলে এনেছি বইটির মধ্যে। চলমান বা যাপিত জীবনকে এবং সময়কে তুলে আনতে চেয়েছি এই বইটিতে প্রকাশিত কবিতার মধ্য দিয়ে,’ দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ নিয়ে বলছিলেন কবি মাহবুবুল হক শাকিল।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের ঠিক এক বছর পর শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত হয়েছে মাহবুবুল হক শাকিলের ‘মন খারাপের গাড়ি’।

কবিতা মূলতঃ চলমান ক্যারাভ্যান তার কাছে। ‘সেক্ষেত্রে আমার মনে হলো যেহেতু আমার বেশিরভাগ কবিতা দুঃখবোধকে প্রকাশ করেছে, আমার অতৃপ্তিকে প্রকাশ করেছে, আমার বেদনাকে প্রকাশ করেছে; তাই এবারের কবিতার ক্যারাভ্যান– কবিতার গাড়ি সেটি হোক না মন খারাপের গাড়ি।’

শাকিলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘খেরোখাতার পাতা থেকে’।

পছন্দের বই তাহলে কোনটি? তিনি বলেন: লেখক ও লেখনীর সম্পর্কটা অনেকের কাছেই বাবা-সন্তানের মতো। আমার কাছেও একইরকম।

‘তবে এটুকু বলতে পারি, একটি বইয়ে উঠে এসেছে আমার সঙ্গে আমার নীরব কথোপকথন এবং অন্য বইটিতে দেশ, কাল, সংস্কৃতি। সুতরাং দুটি দুই ধরনের দিককে নির্দেশ করে, কিন্তু আমার কাছে দুটিই সমান।”

সময় সময় ভ্রমণ করে হয় একটি কবিতা। আর একেকটি কবিতাতো একেকটি ইতিহাস। তেমনই লিখতে গিয়ে নানা ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন লেখক।

নিজের লেখাগুলো নিজেই বিবেচনা করতে গিয়ে দেখেন ব্যক্তিগত দু:খবোধই সেখানে বেশি প্রকাশিত। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েই বসলেন আর কখনো কবিতা লিখবেন না। কিন্তু সেসময় বন্ধুদের তার লেখার প্রতি প্রবল ভালোবাসা আবার তাকে লেখায় উদ্বুদ্ধ করে।

যেমনটা তিনি বলছিলেন, কবিতা মূলতঃ কবিতাপ্রেমীদের জন্য। সবাই কিন্তু কবিতা ভালোবাসতে পারে না।  

এভাবেই নিজের লেখালেখি চালিয়ে যেতে চান মাহবুবুল হক শাকিল। বলেন, যতদিন কলম আছে, যতদিন কিবোর্ড আছে ততদিন লেখালেখি চালিয়ে যাবো। আর সব লেখকই তার কাজের স্বীকৃতি চায়। আপনারা কবিতা পড়ুন, কবিতা বুঝুন। পাঠকের কাছে থেকে এর চেয়ে বেশি বা আর কি-ইবা চাওয়ার আছে?

কবিতা লিখছেন, কিন্তু কর্মস্থল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। একসময় ছাত্ররাজনীতির সামনের সারির নেতা ছিলেন। রাজনীতিটা তিনি দেখেছেন এবং দেখছেন খুব কাছ থেকেই। সেসবও পাঠকের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান কোনো এক সময়।

শাকিল বলেন, আমিতো মূলতঃ রাজনীতির মানুষ। রাজনীতিকে তাই আনতে চাই নিজের লেখার মধ্যে। সেটা কবিতায় সম্ভব নয়। তাই হয়তো কোনো আত্নজীবনী বা উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে পাঠককে শোনাবো সেই গল্পগুলো। 

তবে পাঠকের কাছে তার একটাই চাওয়া, বই-ই যেনো সঙ্গী হয় সবসময়, সবার।

‘আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আমরা অনেকেই বইয়ের কথা ভুলে যাচ্ছি। কিন্তু বইয়ের যে ঘ্রাণ সেটার কি কখনো তুলনা হয়! লেখকরা আগে কবিতা লিখতেন কলমে, এখন লিখেন কি-বোর্ডে। তাতে নিশ্চয়ই কবিতার অবস্থান নষ্ট হচ্ছে না। তাহলে লেখান জায়গা কেন প্রযুক্তি দখল করে নিচ্ছে? বইয়ের তুলনা কিন্তু শুধু বই।’

দেশের সাহিত্যকে দেশের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনুবাদের কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন শাকিল। বলেন, রুশ, ফরাসী, গ্রীক সাহিত্য আমরা সহজেই পড়তে পেরেছি কারণ সেগুলোর অনুবাদ হয়েছে। আমাদের সাহিত্যের যদি অনুবাদ না হয় তাহলে সেটা দেশের বাইরে ছড়িয়ে যাবে না। তাই দেশের সাহিত্যকে দেশের বাইরে ছড়িয়ে দিতে আমাদের অনুবাদের দিকে বাড়তি নজর দিতেই হবে।

ধ্রুব এষের প্রচ্ছদে মাহবুবুল হক শাকিলের ‘মন খারাপের গাড়ি’ বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশনী। বইটি কিনতে দাম দিতে হবে ২০০ টাকা।