চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মনোহরদীকে করোনামুক্ত রাখার প্রত্যয় উপজেলা প্রশাসনের

নরসিংদীর মনোরহরদী উপজেলাকে মহামারী করোনামুক্ত রাখার প্রত্যয় নিয়ে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসি ল্যান্ডের নেতৃত্বে সরকারি টিম। ডাক্তার, পুলিশ-সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তারা।

এই উপজেলায় আজ অবধি করোনা আক্রান্ত কাউকে পাওয়া না গেলেও প্রবাসী ৯৯ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদেরকে কঠোরভাবে নিয়ম মানতে বাধ্য করছে উপজেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসন জানায়, করোনা প্রতিরোধে সারাদেশে জাতীয়ভাবে গঠিত জেলা ও উপজেলা কমিটির মতো মনোরহরদীতেও গঠিত হয় করোনা প্রতিরোধ কমিটি। খোলা হয়েছে হেল্পলাইন। করোনা বিষয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, হোম-কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, বাজারে নিত্যপণ্যে দাম নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কাজে ছুটে বেড়াচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম।

সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা অবধি তারা কাজ করে চলেছেন।

বিজ্ঞাপন

মনোহরদী প্রশাসন জানায়, এখন পর্যন্ত  সরকারিভাবে এ উপজেলার ১৬০০ পরিবারের মাঝে সাহায্য দেওয়া হয়েছে।আরও ১৬০০ পরিবারের মাঝে চলতি সপ্তাহেই বিতরণ করা হবে। তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।  দুস্থ-অসহায় কোনো মানুষ যেন বাদ না পড়ে সেটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাফিয়া আক্তার শিমু।

তিনি বলেন, নরসিংদীর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন এর সদয় নির্দেশনা ও পরামর্শক্রমে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মহামারী করোনা ঠেকাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য সকলের সার্বিক সহোযোগিতা পাচ্ছি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশের সহোযোগিতায় নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার মনিটরিং ও হোম কোয়ারেন্টাইন মনিটরিং করে  যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, নিষ্ঠার সঙ্গে চেষ্টা চালিয়ে গেলে এই মহামারী থেকে উপজেলাকে মুক্ত রাখতে পারবো।

কিছুদিন আগে উপজেলায় নিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হাসান বলেন, এই দূর্যোগকালীন সময়ে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন থাকে সবাই। এক্ষেত্রে আমাদের ডিসি স্যার এর দিকনির্দেশনা সুস্পষ্ট ‘আমরা যুদ্ধে নেমেছি, জয়ী হতে হবে‘।

তিনি বলেন, এখানে সাধারণ মানুষের রুটিরুজির বিষয় জড়িত। দামবৃদ্ধি পেলে সকলের জীবনমানে প্রভাব পড়বে। বাইরে বের হলে রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়বে-তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় রেখে আমাদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হচ্ছে।  ইনশাল্লাহ, এই দু:সময় আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো।