চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মনোনয়ন দৌড়ে কেন আলোচনায় তারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন রাজনীতির মাঠে সরব পদচারণা দেখা যাচ্ছে তারকা পরিচিতি পাওয়া ব্যক্তিদের। নিজেদের চিরচেনা বৃত্তের বাইরে এসে এখন তাদের অনেকেই নাম লেখাচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলোতে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের লড়াইয়ে নামতে মনোনয়ন ফরম কিনে আলোচনার ঝড় তুলেছেন।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন কিনেছেন ক্রিকেট তারকা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, আলোচিত-সমালোচিত হিরো আলম জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন কিনে আলোচনার তুঙ্গে।

বিএনপি থেকে আরো মনোনয়ন কিনেছেন দুই কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা, বেবি নাজনীন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন রুপালি পর্দার পরিচিত মুখ  রোকেয়া প্রাচী, শমী কায়সার, আকবর হোসেন পাঠান ওরফে নায়ক ফারুক, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও সিদ্দিকুর রহমান।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন কিনেছেন সঙ্গীত শিল্পী শাফিন আহমেদ। এছাড়াও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সারাহ বেগম কবরী, সোহেল রানা, শাকিল খান, জ্যোতিকা জ্যোতি, মনির খান, অরুণা বিশ্বাস ও মাসুম পারভেজ রুবেল।

Advertisement

কেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন কিনে আলোচনায় তারকারা? আরো অনেকেই তো মনোনয়ন কিনছেন তাহলে শুধু তারকারাই কেন আলোচনায়? এই বিষয়ে কথা বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন,তারকাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের সবসময় একটা আগ্রহ থাকে। তারা কি খায়, কিভাবে ঘুমায়, কি ধরনের জামাকাপড় পরে সব নিয়েই সাধারণ মানুষের খুব আগ্রহ। বিশেষ করে যারা রূপালী পর্দায় থাকে বা খেলোয়াড়দেরকে তারা তাদের হিরো মনে করে। এভাবে তারা একটা প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক গড়ে তোলে। যেমন, সালমান শাহ মারা যাওয়ার সময়ে জামালপুরে একটা মেয়ে আত্মহত্যা করেছিলো। তার বাবা-মা মারা গেলেও সে আত্মহত্যা করতো কিনা আমরা জানিনা।

‘‘কিন্তু যাকে সে কখনো সামনাসামনি দেখেনি বা যে কখনো তাকে চিনবেও সে মারা যাওয়াতে তার মনে হলো আর বেঁচে থাকার অর্থ কি? এটাকেই বলা হয় প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক।  এটা খুব তীব্র হয়। ফলে আত্মীয় স্বজনের থেকেও তারকাদের খাওয়া পরা, ভালো মন্দ নিয়ে সবার মধ্যে আগ্রহ বেশি থাকে।  আর নির্বাচনও বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি আগ্রহের জায়গা।  ফলে প্রিয় বা অপ্রিয় কোনো তারকা নির্বাচনে অংশ নিলে তখন ২+২=১০ হয়ে যায়।  সেটা শুধু বাংলাদেশেই না, সারা পৃথিবীতেই।’’

তবে এসব নায়কের প্রতি কি ভোটারদের প্রত্যাশাও বেশি থাকে – এমন প্রশ্নে এই গণমাধ্যম বিশ্লেষক বলেন, ভোটাররা তাদের চমক হিসেবে দেখে। তাদের প্রতি তেমন প্রত্যাশা থাকে না। তারা দেশ পাল্টাবে এমন ভাবে না। তাদের মনে করে, বিনোদনমূলক গানের মতো। তারা আনন্দ বিনোদন জোগাবে। খুব বেশি কাজ বা দায়িত্ব পালন তাদের উপর থাকবে না।

যদি দলের ও দেশের কাজের জন্য না হয় তাহলে দলগুলো মনোনয়ন দেয় কেন? জবাবে তিনি যোগ করেন, দলগুলো মনোনয়ন দেয় তাদের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করতে।  জনপ্রিয় ব্যক্তিকে দলের মনোনয়ন দিয়ে বলা হয়, দেখো এসব জনপ্রিয় লোকজন আমার সঙ্গে আছে তোমরা আমাকে ভোট দাও।  মূলত সেজন্যই।