চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মনির খান রাস্তায় হাত তুলে দাঁড়ালেও হাজার লোক জড়ো হয়ে যায়’

দল থেকে রিজাইন না দিলেও পারতেন মনির ভাই: কনকচাঁপা

চারদিকে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সে হাওয়ায় গা ভাসিয়েছে দেশের আপামর জনগণ। নানা কারণেই আসন্ন ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে নির্বাচনকে ঘিরে এবার তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দেশের তারকারা অভিনেতা, অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পীরা।

আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ হয়ে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রাজনীতিবীদ ছাড়াও এবারই প্রথম শোবিজ অঙ্গন থেকে দেখা গেছে বেশকিছু তারকাদের নাম! যারা নিজেদের পছন্দের দল থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কাউকে দলগুলো মনোনয়ন দিয়েছে, আবার কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। এরমধ্যে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা।

রাজনীতিতে তার অবস্থা, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনা এসব নিয়ে সোমবার দুপুরে তিনি কথা বলেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে:

অতঃপর সরাসরি ভোটে দাঁড়ালেন। কী অবস্থা আপনার, কেমন আছেন?
হ্যাঁ, ভালো আছি। এখন গাড়িতে আছি। ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের দিকে যাচ্ছি। আমার আসন সিরাজগঞ্জ-৪ (কাজীপুর), নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার জন্য প্রস্তুতি নিয়েই যাচ্ছি।

প্রচার প্রচারণার কী অবস্থা? শুরু করে দিয়েছেন নিশ্চয়?
প্রচার প্রচারণা আর কই! করতে পারলেতো। সেখানে আমার লোকজন প্রচার প্রচারণা করতে গিয়ে বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সবার জন্যতো আর অধিকার সমান নয়। তবুও নির্বাচনে যেহেতু অংশ নিচ্ছি, প্রচার প্রচারণাতো করতেই হবে। আসলে এটাকে প্রচার বলতে চাই না, মানে এটাকে আমি মাঠ গোছানোর কাজ বলতেই সাচ্ছ্যন্দবোধ করি।

মনোয়ন ফর্ম জমা দেয়ার সময় বিএনপি কার্যালয়ে মনির খান ও কনকচাঁপা

Advertisement

বিএনপির হয়ে অনেকদিন ধরেই সিরাজগঞ্জে আপনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর আপনার এলাকায় কী অবস্থা? সেখানকার মানুষ কী বলে?
আমি আমার এলাকায় বিএনপির হয়ে কিছু করছি, এটা এমন না। আমি সাধারণ মানুষ হিসেবেই যা করার করেছি। রাজনীতি করবো এজন্য এক্সট্রা কিছু করিনি। সাধারণ মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের জন্য কিছু করার অভ্যাস আমি পারিবারিকভাবেই পেয়েছি। এটা আমার পরিবারগত অভ্যাস।

আর এলাকার কথা বললে ওই এলাকার মানুষের কথা বিশেষ ভাবে বলতে হয়। সেই এলাকার মানুষরা নিজেরাই আমার নির্বাচিত এলাকাটা গুছিয়ে রেখেছে। দল থেকে আমাকে নমিনেশন দেয়াতে এলাকার মানুষ এতো খুশি, এতো উজ্জীবিত সেটা বলার মতো না। ফোনে ফোনেই সবার সাথে এতোদিন কথা হচ্ছে। সামনা সামনি দু তিনটা মিটিং হয়েছে, কিন্তু তারপরও তাদের যে প্রত্যাশা আমাকে নিয়ে এটা রীতিমত বিস্ময়ের। এখন আল্লাহ ভরসা। আমি আশা করি, ঠিকঠাক ভোট গণনা হলে আমি নিশ্চিত ভাবে ভালো কিছুই করবো। ভোটের রাজনীতিতে আমি হয়তো নতুন, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আমার শ্রম বৃথা যাবে না।

সম্প্রতি বিএনপি থেকে ঝিনাইদহ-৩ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন আপনাদের আরেক সহশিল্পী মনির খান। শেষ সময়ে এসে উনাকে দল টিকেট দেয়নি। এটাকে কীভাবে দেখেন?
মনির খানতো আমার সহশিল্পী। আমরা একসঙ্গে প্রচুর কাজ করেছি। উনি এবার নির্বাচন করছেন, এটা আমাদের শিল্পীদের জন্য আনন্দের খবর ছিলো। কিন্তু শেষ সময়ে তাকে দল মনোনয়ন না দেয়ায় শিল্পী হিসেবে আমিও কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু দল কী কারণে শেষ সময়ে এসে এমন সিদ্ধান্ত নিলো, এটা আমি জানি না। এটা নীতি নির্ধারক যারা আছেন, তারাই ভালো বুঝেন। সেই জায়গা নিয়ে আমি মন্তব্যও করতে চাই না। কারণ সেটা বড়দের জায়গা। ওই বিষয় নিয়ে বলতেও পারবো না।

কিন্তু মনির খানতো ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত, শেষ সময়ে এসে মনোনয়ন না পাওয়ায় দলও ত্যাগ করার ঘোষণা দিলেন…
অবশ্যই, মনির খান একজন পরিশ্রমী নেতা ছিলেন। আমি নিজেও মনে প্রাণে চাইছিলাম সে নির্বাচন করুক। মনির খান একজন সত্যিকারের নেতা হওয়ার মতোই পার্সোনালিটি। মানুষ তাকে এতো ভালোবাসে, তার কথা এতো মনযোগ দিয়ে শোনে, সেটা বলার মতো না। মনির খান রাস্তায় হাত তুলে দাঁড়ালেও হাজার লোক জড়ো হয়ে যায়, শুধু তার কথা শোনার জন্য। তিনি অসম্ভব ভালো একজন মানুষ, এবং বোল্ড একজন নেতা। নেতা হওয়ার যে গুণ, তার উপস্থিতিতে একশো ভাগই ছিলো।

তিনিতো বিএনপি ছাড়ারও ঘোষণা দিয়েছেন?
হ্যাঁ, কিন্তু দল থেকে রিজাইন না দিলেও পারতেন মনির ভাই। আসলে এটা তিনি অভিমান থেকেই করেছেন বলেই ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়। আসলে বহুদিন ধরে তিনি দলের সাথে আছেন। নানা ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করেছেন। বহুদিন ধরে মাঠও গুছিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। আর শিল্পী হিসেবেওতো তিনি বেশ জনপ্রিয়। রাজনীতিবিদদের যেমন আগে মাঠ গুছাতে হয়, তারপর জনপ্রিয় হতে হয়; আর শিল্পীদের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তাটাতো আগে থেকেই তৈরি হয়ে থাকে। এটা তাদের জন্য অ্যাডভানটেজ। আমার ক্ষেত্রেও যেমনটা হচ্ছে। কিন্তু মনির ভাইতো শিল্পী হিসেবে যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনি বহুদিন ধরে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গেও তার উঠাবসা ছিলো। তারপরও কেন তাকে দেয়া হলো না, সেটা দলই ভালো বলতে পারবে। দলের ভালো মন্দটাতো নিশ্চয় নীতি নির্ধারকরাই ভালো বুঝেন।

মনির খানের বিষয়টি নিয়ে কি দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত জানা আছে আপনার?
না। আমিতো বললামই যে, এসব বিষয়ে একমাত্র নীতি নির্ধারকরাই অবগত। আর সত্যিকারভাবে বলতে কি, বড়দের ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলি না। আমার বাড়ি, আমার শ্বশুর বাড়িতেওতো নানা বিষয়ে বড়রা কথা বলেন, সেসময়ও আমি চুপ করে থাকি। বড়দের মধ্যে আমি কোনো কথাও বলি না, মাথাও ঘামাই না। একইভাবে আমার দলের ক্ষেত্রেও যারা বড় মানুষ আছেন, তাদের সব সিদ্ধান্তই আমি শ্রদ্ধার সাথে নেই।