চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মডেল’ নির্বাচনে ভোটের অপেক্ষা

নাসিকের মেয়র আইভী নাকি তৈমুর?

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন; এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বলছে, এবারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন (নাসিক) হবে সারাদেশের কাছে ‘মডেল নির্বাচন’। যদিও সরকার দলীয় মেয়রপ্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী বারবার সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমুর আলম খন্দকারের দাবি, প্রশাসনকে দিয়ে ভোটের ফল পাল্টে দিতে পারে সরকার।

দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণার পর নাসিক নির্বাচনে রোববার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। বিরতিহীনভাবে তা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

শনিবার ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম), ব্যালট, বাক্সসহ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি ভোট কেন্দ্রে ১ হাজার ৩৩৩ ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন ভোটার।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত সেলিনা হায়াত আইভী (নৌকা মার্কা), খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন (দেয়ালঘড়ি মার্কা), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সাবেক নেতা তৈমুর আলম খন্দকার (হাতি মার্কা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা মার্কা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন (বটগাছ মার্কা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি মার্কা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম (ঘোড়া মার্কা)।

এছাড়াও ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১৪৮ জন। আর সংরক্ষিত ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রাথী ৩৪ জন। এরই মধ্যে শুক্রবার রাত ১২টা থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে সহিংসতা রোধে ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পেনাল কোডের অধীনে তারা মামলা নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচার কাজ পরিচালনা করতে পারবেন। নির্বাচনে ১৯২টি ভোট কেন্দ্রে ও কেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রতি কেন্দ্রে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৬ করে সদস্য।

সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে আলাদাভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই, সবগুলো কেন্দ্রকেই বিশেষ বিবেচনায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘‘নাসিক নির্বাচনে পুলিশের ২৭টি ইউনিট স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। এছাড়াও পুলিশের মোবাইল টিম থাকবে ৬৪টি, প্রতি টিমে সদস্য থাকবেন পাঁচজন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৪ প্লাটুন সদস্য থাকবে।’’

নাসিক নির্বাচনে র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ৩টি, চেকপোস্ট থাকবে ৬টি, টহল টিম থাকবে ৭টি ও স্ট্যাটিক টিম থাকবে ২টি।

নির্বাচনে ৩ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি এই নির্বাচন যেন সারাদেশে একটি মডেল নির্বাচন হিসেবে রূপ লাভ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নিরাপত্তা বলয় গঠন করেছি।

নিজের জয়ের ব্যাপারে ‘শতভাগ নিশ্চিত’ সেলিনা হায়াত আইভী তার শেষ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জিতবেন।

একই ব্যবধানে (লক্ষাধিক ভোটে) জয় লাভ করবেন দাবি করেছেন তৈমুর আলম খন্দকারও। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। মরে গেলেও পালিয়ে যাবেন না।

বিজ্ঞাপন