চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভ্যাকসিন পেলেই কার্যকর করার পরিকল্পনা করতে হবে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাস সংক্রমণ কমাতে আরও শক্তিশালী সম্মিলিত প্রচেষ্টা করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দেশগুলোকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পাওয়ার সাথে সাথেই কার্যকর করার মতো পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ডাঃ পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার বন্ধ করতে এই অঞ্চলে তাই বেশ কিছু কাজ করা দরকার। পরিস্থিতি পাল্টাতে যেগুলো দরকার সেগুলো হলো: অব্যাহত দৃঢ় নেতৃত্ব, শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য বিধি, ভালো যোগাযোগব্যবস্থা এবং ক্ষমতায়িত এবং সক্ষম জনগণ।

বিজ্ঞাপন

সদস্য দেশগুলোর সাথে এক আলোচনায় তিনি বলেন, করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের জন্য সারাবিশ্ব প্রতিযোগিতা করছে। নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিনের পাশাপাশি দেশগুলোর ভ্যাকসিন সরবরাহের একটি কার্যকর এবং সমন্বিত কৌশল ও পরিকল্পনা প্রস্তুত করা উচিত। ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা প্রাথমিকভাবে সীমাবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই জাতীয় টিকাদান কৌশলের স্পষ্ট লক্ষ্যগুলো চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের সবগুলো দেশে ভ্যাকসিন ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত সরবরাহের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রস্তাব যেন দেশগুলো তাদের টিকাদান কৌশলে ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যাকে অগ্রাধিকার দেয়। ভ্যাকসিন পাওয়া মাত্রই তাদের সেটা সরবরাহ করা হয়, পরে অন্যদের।

বিজ্ঞাপন

ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, কোভিড-১৯ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য এই ভাইরাসজনিত মৃত্যুহ্রাসের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব হ্রাস করা।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রবর্তনের জন্য নয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের তালিকা তৈরি ও তালিকাবদ্ধকরণের বিষয়ে আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, টিকা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি জাতীয় স্তরের সমন্বয় কমিটির প্রয়োজন হবে। নতুন ভ্যাকসিনের অনুমোদনের জন্য একটি ত্বরান্বিত নিয়ন্ত্রক পথ, ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোকে অগ্রাধিকারের পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি প্রযুক্তিগত পরামর্শদাতা দল; সংক্রমণ প্রতিরোধ ও টিকাদান সেশনের সময় এক্সপোজার হ্রাস করার জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রোটোকল, ভ্যাকসিন প্রবর্তনের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা, কভারেজ, গ্রহণযোগ্যতা এবং রোগের নজরদারি পরিমাপ করার জন্য মনিটরিং সিস্টেম দরকার হবে।

দেশগুলোর ভ্যাকসিন কোল্ড চেইন সিস্টেম শক্তিশালী করা প্রয়োজন হবে। ভ্যাকসিন সুরক্ষার দায়িত্ব প্রশিক্ষিত কর্মীদের হাতে নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া নতুন ভ্যাকসিনের জন্য মানুষের মধ্যে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা জাগ্রত করার জন্য সাধারণ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অব্যাহত সমর্থনের কথা জানিয়ে ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, একসাথে আমাদের জনস্বাস্থ্যমূলক পদক্ষেপগুলো আরো কঠোরভাবে প্রয়োগ করে কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া জোরদার করতে হবে। আমাদের সামনের দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে এবং ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সবগুলো উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই জীবন রক্ষা পাবে এবং ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস পাবে।