চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভ্যাকসিন নিয়ে অনেক সুখবরের মধ্যে বড় দুঃসংবাদ

তিনদিন আগেই ভারত সরকারের দেয়া উপহারের ২০ লাখ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। আজ রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দিলেন আরেক সুখবর; ভারত থেকে কেনা ৩ কোটি ভ্যাকসিনের মধ্যে ৫০ লাখ ডোজ সোমবার দুপুরে আসছে। ঠিক তার দুইদিন পর ২৭ জানুয়ারি একজন নার্সকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হবে ভ্যাকসিন কর্মসূচি।

এতগুলো সুখবর নিঃসন্দেহে জনগণকে উৎফুল্ল করেছে। অনেকেই আশায় আছেন, করোনো ভ্যাকসিন নতুন দিনের দিশা দেখাবে। আসলেও কি তাই? যুক্তরাজ্যের ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার প্রফেসর জোনাথন ভ্যান-টাম-এর বক্তব্য কিন্তু সে কথা বলছে না। তিনি বলেছেন, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন যারা গ্রহণ করেছেন; তারাও অন্যদের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়াতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত এক লেখায় জোনাথন ভ্যান-টাম বলেছেন, বিজ্ঞানীরা এখনও সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের প্রভাব নিয়ে জানে না। এটা ঠিক ভ্যাকসিন আশা দিচ্ছে; কিন্তু যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদেরকেও লকডাউনের নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। কারণ এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিনই ১০০ ভাগ কার্যকর নয়। তাই ভ্যাকসিনের দুটি ডোজই গ্রহণ করার পরও একজন অন্যদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তার মনে তিনি এক রকম নিশ্চিত করেই দিলেন, কোনো ভ্যাকসিনই করোনা প্রতিরোধে শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। আর তাই সেটার উপর নির্ভর করা ঠিক হবে না। নির্ভর করে একটু ছাড় দিলেই বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি যিনি ভ্যাকসিন নিয়ে নিজেকে নিরাপদ ভাবছেন; তিনিও বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারেন নিজেকে এবং অন্যদেরকেও।

আমরা মনে করি, বাংলাদেশেও প্রফেসর জোনাথন ভ্যান-টামের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তিনি যে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন তা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমাদের জন্য। এই মহামারিতে আমরা দেখেছি, জেল-জরিমানার করে বা তার ভয় দেখিয়েও বহু মানুষকে মাস্ক পরানো সম্ভব হয়নি। নিশ্চিত করা যায়নি সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানানোর বিষয়টিও।

এমন অভিজ্ঞার পর নিশ্চিত করেই বলা যায়, জনগণের একটা বড় অংশ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর ‘যেমন ইচ্ছে’ চলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঠিক করে ফেলেছে; ভ্যাকসিন নিলে করোনা বলে আর কিছু থাকবে না। আর এটাই হবে ভয়ংকর বিষয়। আমাদের ভয়টা এখানেই।

এই রকম ভাবনা-চিন্তার মধ্যে যারা আছেন; তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।