চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু করেছে রাশিয়া

প্রথম দফায় করোনা ভ্যাকসিনের গণউৎপাদন শুরু করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অনুমোদনের পর বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন উৎপাদনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে দেশটির সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, গামালিয়া গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের প্রথম ব্যাচ তৈরি শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার পুতিনের ওই ঘোষণার পরে বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বার বার সতর্ক করে বলেছে, এখনও ভ্যাকসিনটির কঠোর সুরক্ষামূলক পর্যালোচনা দরকার।

যদিও তিনি বলেছিলেন, ভ্যাকসিনটি নিরাপদ এবং তার নিজের মেয়ের শরীরে তা প্রয়োগ করা হয়েছে। ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পরীক্ষার জন্য ২ হাজারেরও বেশি মানুষের শরীরে প্রয়োগ এই সপ্তাহেই শুরু হয়েছে।

পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা সংশয় প্রকাশ করে কিছুটা সতর্ক করে বলেছিলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে দ্রুত এগোনো বিপজ্জনক হতে পারে।

তবে মস্কোর গবেষণাকে ক্ষুণ্ন করার প্রয়াস উল্লেখ করে এসব সমালোচনার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।

বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার এই ভ্যাকসিনটির নাম দেওয়া হয়েছে স্পুটনিক-ফাইভ। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত যুগে মহাকাশে পাঠানো প্রথম স্যাটেলাইটের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে।

রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে মস্কোর গামালিয়া রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর এপিডেমিওলজি এবং মাইক্রোবায়োলজি এই ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে।

শনিবার ইনস্টিটিউটের প্রধান আলেকজান্ডার গিন্সবার্গ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে বলেছেন, ভ্যাকসিনের সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা নির্ণয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীদের দুটি টিকা প্রদান করা হবে।

‘‘সেপ্টেম্বর থেকেই ভ্যাকসিনের শিল্প উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং ডিসেম্বর বা জানুয়ারি থেকে প্রতি মাসে ৫ মিলিয়ন ডোজ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো বলেন, প্রথমে চিকিৎসকদের টিকা সরবরাহ করা হবে। পরে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে সব রাশিয়ানদের সরবরাহ করা হবে।

রাশিয়ায় এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৯ লাখ ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। প্রাণ হারিয়েছে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ।