চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভ্যাকসিনে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে যে পদক্ষেপ নেয়া হবে

দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নেবার পর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে কী করতে হবে তার একটি দিক নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন করোনার ভ্যাকসিনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে জনসাধারণকে সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ভ্যাকসিন নেয়ার আগে মানুষের মধ্যে যাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে অহেতুক উদ্বেগ না ছড়ায় সেদিকে তীক্ষ নজর রাখছে সরকার। মানুষ যাতে স্বাভাবিকভাবে টিকা নিতে উৎসাহী হয় সে জন্য গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে টিকাদান কেন্দ্রে জানাতে হবে
টিকা নেবার পর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে কী করা হবে, টিকার মান নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করা বিষয়ক ১৭ পৃষ্ঠার একটি প্রোটকল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

তাতে বলা আছে টিকা যারা নিচ্ছেন তাদের উপর কী প্রতিক্রিয়া হয় তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে যেখান থেকে টিকা দেয়া হয়েছে সেখানে জানাতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে একটি ফর্ম পাওয়া যাবে। সেখানেও জানানো যাবে।যেসব হাসপাতালে টিকা দেয়া হবে তার সবগুলোতে একজন করে কর্মকর্তা থাকবেন যার দায়িত্ব হবে কারো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সে সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো।

রাজধানীতে সব জেলার সিভিল সার্জনরা 
সারা দেশে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমে নির্দেশনা দেয়ার অংশ হিসেবে দেশের ৬৪টি জেলার সিভিল সার্জনরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। দুপুর তিনটায় রাজধানীর রেডিশন ব্লু হোটেলে করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে তাদের নির্দেশনা দেয়া হবে।

অক্সফোর্ডের টিকায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য নেই
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অক্সফোর্ডের গবেষণা বিভাগের তথ্যানুসারে এই টিকা নেওয়ার পর খুব জটিল কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। উপসর্গ হিসেবে টিকা দেওয়ার স্থান কিছুটা ফুলে যাওয়া, মৃদু শরীর ব্যথা, হালকা জ্বর, জ্বর জ্বর ভাব, হালকা র্যাীশ, চুলকানি, ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, বমি ভাব দেখা দিতে পারে। যা পরে এমনিতেই সেরে যায়। এর বাইরে খুব কমসংখ্যকের মধ্যে কিছুটা অস্বাভাবিক উপসর্গ যেমন ক্ষুধামন্দা, মাথা ঘোরানো, পেট ব্যথা, ঘাম দেওয়া, লসিকাগ্রন্থি ফুলে ওঠা ইত্যাদি হতে পারে। টিকা নেওয়ার পর এসব উপসর্গ দেখা দিলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, টিকাদানকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব না ছড়ানোর আহ্বান
স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অনাস্থা দূর করার জন্য গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অহেতুক গুজব, ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি না করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, টিকা নেওয়ার পরে গ্রহীতাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করার জন্য চিকিৎসক নিয়োজিত থাকবে। তাদের টিকা দেওয়ার পর দশ থেকে পনের মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের করোনা ভ্যাকসিন হস্তান্তর

তাদের সবাইকে টেলিমেডিসিনের আওতায় নেওয়া হবে জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, যেহেতু মানুষ জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে অনলাইনে অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধন করে টিকা গ্রহণ করবে, সে ক্ষেত্রে টেলিমেডিসিন সেবা দিতে অসুবিধা হবে না।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মেনে নিয়ে টিকা নিতে হবে
করোনার টিকায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে জনসাধারণকে সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। এ জন্য আমি মনে করি, জনগণকে প্রস্তুত থাকতে হবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মেনে নিয়ে টিকা নিতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো ওষুধের কিংবা টিকার সাইড অ্যাফেক্ট থাকতে পারে। আমরা একটি ওষুধ গ্রহণ করলেও সেটার গায়ে লেখা থাকে, কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। আবার নাও হতে পারে। বিভিন্ন দেশে টিকায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে।

এরআগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১২৩২ ফ্লাইটে করোনা ভ্যাকসিনগুলো বাংলাদেশে আসে।

দেশে পৌঁছালো করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে এ টিকা হস্তান্তর করেন।এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

ভ্যাকসিনগুলো সরাসরি ফ্রিজারের মাধ্যমে তেজগাঁও হেলথ কমপ্লেক্সের ইপিআই সেন্টারে চলে গেছে। পদ্মায় আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো হস্তান্তর করা হবে। মূলত ভ্যাকসিনগুলো রিসিভ করে কোল্ড স্টোরে রাখা হবে।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড নামে বাজারজাত করছে সেরাম ইনস্টিটিউট। গত শনিবার থেকে এ টিকা ভারতের মানুষকে দেওয়া শুরু হয়েছে। উপহারের বাইরে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনটি বাণিজ্যিকভাবে তিন কোটি ডোজ পাওয়ার জন্য গত ৫ নভেম্বর সেরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুসারে প্রথম ধাপে প্রত্যেক মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার কথা। এ মাসেই যার প্রথম চালান আসার কথা রয়েছে।