চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভোট কারচুপির প্রতিবাদে উত্তাল বেলারুশের রাজধানী

নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে হাজার হাজার জনতার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বেলারুশের রাজধানী মিনস্ক।

সম্প্রতি বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ। জনতার দাবি, এ নির্বাচন মোটেও সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়নি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই দাবি নিয়ে প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে গত রোববার থেকে বিক্ষোভ করছে দেশটির হাজার হাজার মানুষ। সরকার কঠোরভাবে বিক্ষোভও দমন করছে। এসময় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সভেৎলানা তিখানোভস্কায়াকেও দেশ ছাড়তে হয়েছে।

বিবিসি বলছে, বিক্ষোভ দমনে স্বৈরাচারি লুকাশেঙ্কো সরকার বলপ্রয়োগ করছে প্রতিদিন। বিক্ষোভ থেকে গণহারে আটক করা হয়, যার সংখ্যা ৬ হাজারের ওপরে। মারাও যায় একজন।

তবে তীব্র বিক্ষোভের মুখে ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপে গ্রেপ্তারকৃতদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সরকার। একজন মন্ত্রী ক্ষমাও চেয়েছেন। এরপরও বিক্ষোভ বন্ধ হয়নি।

জনতার দাবি, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। ভোট পুনরায় গণনার দাবি জানিয়েছে তারা। তাদের এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে ধাবিত হচ্ছে ধীরে ধীরে। আন্দোলনে পুরুষেদের পাশাপাশি নারীরাও নেমে এসেছে রাস্তায়, যা রূপ নিচ্ছে গণ আন্দোলনে।

বিজ্ঞাপন

বেলারুশের বিতর্কিত নির্বাচনের ফলাফল বলছে, ৮০ দশমিক ২৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ২৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা লুকাশেঙ্কো। তার প্রধান বিরোধী সভেৎলানা তিখানোভস্কায়া পেয়েছেন মাত্র ৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। কিন্তু জনসমর্থনের দিক থেকে বহুগুণে এগিয়ে রয়েছেন সভেৎলানা।

তার সমর্থকদের দাবি, স্বৈরাচার লুকাশেঙ্কোকে ক্ষমতায় রাখতে নির্বাচনে ব্যাপক দুর্নীতি এবং জালিয়াতি করা হয়েছে।

অনেস্ট পিপল নামে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের কাছে থাকা তথ্যমতে, সভেৎলানা অন্তত ৮০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে জয়লাভ করেছেন। এ কারণে অনেকেই এখন ভোট পুনরায় গণনার দাবি জানিয়েছেন।

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর গত রোববার থেকেই বেলারুশের রাস্তায় নেমে আসে দেশটির জনগণ। বিক্ষোভের প্রথম রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় কয়েক হাজার মানুষকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় সরকার।

বুধবার বেলারুশের প্রেস অ্যাসোসিয়েশন জাানায, বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ৫০ সাংবাদিক আটক, না হয় আহত হয়েছেন।

নির্বাচনে কারচুপি ও ব্যাপক ধরপাকড়ের প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র বেলারুশের স্বৈরাচার সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে রাশিয়া সমর্থন জানিয়েছে লুকাশেঙ্কোকে। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট দুই বার ফোনালাপ করেছেন ও সহযোগিতা চেয়েছেন।

১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা লুকাশেঙ্কো বিরোধীদলীয় সমর্থকদের ‘ভেড়া’ বলে মন্তব্য করে বলেছেন, বিরোধী সমর্থকদের বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। দেশকে ধ্বংস করার কোনও সুযোগ দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।