চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভিলেন হিসেবে যেমন ছিলেন সৌমিত্র

প্রায় ছয় দশকের চলচ্চিত্র জীবন তাঁর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিচিত্র সব চরিত্ররা প্রাণ পেয়েছে তাঁর মধ্য দিয়ে। কতো কতো চরিত্রদের তিনি সিনেমার ইতিহাসে জীবন দান করে দিয়েছেন, তার ইয়ত্তা নেই। প্রথম ছবি ‘অপুর সংসার’ এর অপু থেকে শুরু করে পঁচাশি বছর বয়সে করা চরিত্রটিকেও সমানভাবে ভালোবেসেছে মানুষ! বলছি সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা। এতো এতো চরিত্রদের ভিড়ে খলঅভিনেতা হিসেবেও দেখা গেছে তাঁকে!

কালো ওভারকোট পরে, চোখে সানগ্লাস আর ঠোঁটে চুরুট ধরা খলনায়ক নয়, সৌমিত্র খলঅভিনেতার ছাপ ফোটাতেন তাঁর দৃষ্টিতে। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ ভালো না খারাপ, তার পরিচয় পাওয়া যায় চোখের চাহনিতে! সুক্ষ্ম খলনায়কের চরিত্রে দর্শককে মাত করতেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। পুরো ক্যারিয়ারে খুব বেশি খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেননি, কিন্তু যে’কটি করেছেন, সেখানেই ছাপ ফেলেছেন। গুণী এই অভিনেতার মৃত্যু দিনের এই শোকের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তার অসংখ্য আলোচিত চরিত্রদের পাশাপাশি খোঁজ থাকলো খলঅভিনেতা সৌমিত্রের:

ঝিন্দের বন্দী: শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় কল্পিত ময়ূরবাহন হয়ে উঠেছিলেন সৌমিত্র। সুদর্শন চেহারা, ঠিক যেন কার্তিকের মতো। কিন্তু, মনটা তার বিষাক্ত। ক্ষমতার লোভ অন্ধ করেছিল ময়ূরবাহনকে। ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে বাংলা ছবির উজ্জ্বলতম নক্ষত্র উত্তমকুমারের সঙ্গে অভিনয়ে টক্কর দিয়েছিলেন সৌমিত্র।

আগুন: তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে অসিত সেন পরিচালিত ‘আগুন’ মুক্তি পায় ঠিক পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৬২ সালে । মূলত পারিবারিক ও মানসিক দ্বন্দ্বের উপর নির্ভর করে এগিয়েছে ‘আগুন’-এর গল্প। সৌমিত্রর মধ্যে দেখা গেছে মানসিক নানা স্তর, একজন রক্তমাংসের মানুষের মধ্যে যেমনটা দেখা যায়। সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে খুব ভালো করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন অভিনেতা।

বিজ্ঞাপন

ঘরে বাইরে: ১৯৮৫ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল ‘ঘরে বাইরে’। সৌমিত্রের করা সেরা খলনায়কের চরিত্র বলা যেতে পারে ‘সন্দীপ’-কে । সিনেমা শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে অবধি বোঝাই যাবে না যে, সন্দীপ কোনও খারাপ কাজ করতে পারে, দুর্নীতি করতে পারে। আর এখানেই সৌমিত্রর জয়।

কাকাবাবু হেরে গেলেন ? : সিনেমার নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত কাকাবাবুকে নিয়ে এই ছবি। তবে সৌমিত্র কিন্তু কাকাবাবু নন। বরং তাঁকে এই ছবিতে দেখা গেছে খলনায়কের চরিত্রে। শিক্ষিত, ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন এক লোভী মানুষ। পিনাকী চৌধুরি পরিচালিত এই ছবি মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। সৌমিত্রর বেশ বয়স তখন, তবুও তিনি খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করার রিস্ক নিয়েছিলেন এবং দারুণভাবে উতরে গেছিলেন।