চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ভিন্নরূপে পুরুষ আলোকচিত্রে প্রকৃত আলোর দেখা মিলেছে’

ভিন্নরূপে পুরুষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রকৃত আলোর দেখা মিলেছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন: এ আলোকচিত্রে পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি পুরুষের আবেগ-অনুভূতি, ভালোবাসা, প্রেম ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় ‘ভিন্নরূপে পুরুষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভিন্নরূপে পুরুষ আলোকচিত্রে প্রকৃত আলোর দেখা মিলেছে। আমাদের মা বোনদের সঙ্গে মিলেমিশে দায়িত্ব ও ভালোবাসার মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। সমাজের পুরুষ সদস্যদের গৃহস্থালি সেবামূলক কাজে উৎসাহিত করা ও নারীর গৃহস্থালির সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি ও পুণঃবন্টন করা সকলের কাজ, সরকারের একার কাজ নয়। এসব পরিবর্তনের কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু করেছেন, পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে এসব কাজ হচ্ছে। এসডিজি বাস্তবায়নে আমরা নিজেদের অর্থে এবং সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা কাজ করব, আমরা আমাদের মা বোনদের কখনোই ছেড়ে যাবো না। গৃহস্থালির সেবামূলক কাজে নারীর স্বীকৃতির পাশাপাশি পুনর্বন্টন ও হ্রাসে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

অনুষ্ঠানে গৃহস্থালির সেবামূলক কাজ নিয়ে গবেষণার বিশেষ দিকগুলো উপস্থাপন করেন বিশেষ অতিথি রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা। 

তিনি বলেন, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটের মোট ১০টি ইউনিয়নে ২০১৮ সালে পরিচালিত এক গবেষণা মতে, নারীরা গৃহস্থালির সেবামূলক কাজে দৈনিক প্রায় ৭ ঘন্টা ব্যয় করে, অপরদিকে পুরুষরা ব্যয় করে ৩ ঘন্টারও কম। এক্ষেত্রে ঘরের কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে নারী-পুরুষ সকলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। 

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির বলেন, সরকারি নীতিমালায় যদি গৃহস্থালির সেবামূলক কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় তবে ইউনিয়ন পর্যায়েও নারীর জন্য সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেয়া সম্ভব। প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরাও যাতে ঘরের কাজের পাশাপাশি আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারেন সেজন্য সুযোগ-সুবিধা তৈরিতে প্রয়োজনে সরকারি নীতিমালাতেও, বিশেষ করে সরকারের পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে। 

তিনি বলেন: আঞ্চলিকতা, শ্রেণী, বর্ণ, ধর্ম ও অন্যান্য সামাজিক পরিচিতি নির্বিশেষে স্বতন্ত্র কিছু আলোকচিত্র সহ ও এই প্রদর্শনী এ বার্তা দিচ্ছে যে,পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গৃহস্থালির সেবামূলক কাজ খুবই অত্যাবশ্যকীয় এবং পুরুষদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে এ কাজের স্বীকৃতি ও
পুনর্বন্টন জরুরি-এটাই বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।স্বাগত বক্তব্যে একশনএইডের অপরচুনিটি ফর উইমেন ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড রাইটস (পাওয়ার) প্রকল্পের কোঅর্ডিনেটর মো. হেলালউদ্দিন বলেন, ‘ভিন্ন রূপে পুরুষ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে যে সকল গল্প ও আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে তা বৃহত্তর সমাজের একটি অংশ মাত্র। এর মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে গৃহস্থালির সেবামূলক কাজে পুরুষের স্বতস্ফুর্ত ও নিয়মিত অংশগ্রহণের চিত্র। এটা ক্ষুদ্র তবে আন্তরিক প্রয়াসে গৃহস্থালির সেবামূলক কাজে পুরুষ স্বতঃস্ফূর্ত ও নিয়মিত অংশগ্রহণের চিত্র। এটা ক্ষুদ্র তবে আন্তরিক প্রয়াশ।এ ধরনের জেন্ডার অসমতা পরিবর্তনে ও নারী-পুরুষের ভূমিকা সংক্রান্ত বিদ্যমান মূল্যবোধ বিনির্মাণে এ প্রদর্শনী ভূমিকা রাখবে। ২০১৯-এ এসে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে আমরা আরেকবার হাজির হয়েছি, যা ২০১৭ সালে শুরু হয়েছিল।

এছাড়া অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা জানান একজন নারী কৃষক বিথী বেগম। প্রতিযোগিতার নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন আলোকচিত্র নির্বাচনী কমিটির অন্যতম সদস্য আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া।

আলোচনা শেষে আলোকচিত্র প্রতিযোগিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিজয়ী দশ প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা তিনজনকে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। প্রথম পুরস্কার পান সালাউদ্দিন আহমেদ, দ্বিতীয় ফারহানা আক্তার এবং তৃতীয় হন শাহ নেওয়াজ সৈকত।

পরে পরিকল্পনামন্ত্রী আলোকচিত্র প্রদশর্নীর উদ্বোধন করেন এবং প্রদশর্নীটি ঘুরে দেখেন।  শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারি-৪ এ পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রদশর্নী ৫ নভেম্বর সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।

শেয়ার করুন: