চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভালো লাগছে, আবার ভয় ও লাগছে: তিশা

সরকারি অনুদানে নির্মিতব্য প্রদীপ ঘোষের ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশা ও মনোজ প্রামাণিক…

‘সমসাময়িক গল্পকে পর্দায় তুলে ধরা খুব সহজ, কিন্তু পিরিওডিক্যাল গল্পকে ফুটিয়ে তোলা একটু কঠিন। চ্যালেঞ্জের বিষয়। ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর তাই খুব ভালো লাগছে, এবার কিছুটা ভয়ও লাগছে। কেননা প্রীতিলতা ইতিহাসের চরিত্র।’

২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ঘোষিত সরকারি অনুদানে নির্মিতব্য ‘ভালোবাসার প্রীতিলতা’ চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে এভাবেই বললেন ছোট ও বড় পর্দার তারকা অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা।

বিজ্ঞাপন

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ভালোবাস প্রীতিলতা’ অবলম্বনে প্রদীপ ঘোষ নির্মাণ করতে যাচ্ছেন চলচ্চিত্রটি। ২৪ সেপ্টেম্বর বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর মিলনায়তনে ছবিটির মহরতের আয়োজন করা হয়। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এম.পি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

বিজ্ঞাপন

এই অনুষ্ঠানেই ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ ছবিতে কারা অভিনয় করবেন, তাদের নাম ঘোষণা করেন নির্মাতা। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বীরকন্যা প্রীতিলতার চরিত্রে অভিনয় করবেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, এবং রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের চরিত্রে অভিনয় করবেন অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক।

এমন ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে তিশা জানান, ঐতিহাসিক সিনেমায় আগেও অভিনয় করেছি, কিন্তু প্রীতিলতা তার থেকে নিশ্চয় আলাদা। একজন দুঃসাহসী নারীর চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো। গত একমাস ধরে এই চরিত্রটি নিয়েই আছি, নিজেকে প্রস্তুত করছি। পুরো টিম পরিশ্রম করছে ভালো একটি প্রোডাকশন সবাইকে উপহার দেয়ার। এক কথায় বলা যায়, এই চরিত্রটির কারণে খুব বড় একটি দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছি। বাকিটা সময়ই বলে দেবে।

ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাস বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলো। সারা ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্নকে আন্দোলিত করেছিলো চট্টগ্রামের যুববিদ্রোহ। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে সাহসিকতাপূর্ণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম চার দিন স্বাধীন ছিলো। দুইশত বছরের বৃটিশ শাসন-শোষণের ও পরাধীনতার শৃংঙ্খল মোচনে, বীর চট্টলার মাটিতে জন্ম নেয় বীর নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। যিনি বৃটিশ প্রমোদ কেন্দ্র ইউরোপিয়ান ক্লাব সফলভাবে হামলা করেন। প্রীতিলতার আত্মাহুতির বীরচিত ঐতিহাসিক ঘটনার বিশদ বিবরণ থাকবে এই চলচ্চিত্রে। এমনটাই জানান নির্মাতা প্রদীপ ঘোষ।

শুটিং নিয়ে এই নির্মাতা বলেন, আসছে অক্টোবরের ১ তারিখে আমরা শুটিং শুরু করবো। ঢাকা ও চট্টগ্রামে শুটিং শেষ করে কলকাতাতেও আমরা শুটিং করতে চাই। বাকিটা সময় ও অবস্থার উপর নির্ভর করবে।

সেলিনা হোসেনের গল্পে রয়েছে প্রীতিলতার কিশোরী জীবনের সহজ সরল ছেলেবেলা। কলকাতায় বেথুন কলেজে অধ্যয়নকালে বীরকন্যা প্রীতিলতার চেতনায় অংকুরিত হয় স্বদেশ মুক্তির ব্রত। চট্টগ্রাম কলেজের মেধাবী ছাত্র রামকৃষ্ণ বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামী হয়ে আলিপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন। হাইকোর্টে ফাঁসির রায় ঘোষণার পরে পত্রিকায় তা ছাপা হয়। প্রীতিলতা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি পড়ে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসকে একবার দেখার জন্য উদ্যোগী হন। তার এক আত্মীয়ার মাধ্যমে জেলারের কাছে আবেদন করে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের বোন পরিচয়ে। অমিতা দাস ছদ্ম নামে প্রীতিলতা চল্লিশবার জেলে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের কাছে যায় এবং এক সময় তাদের এ পরিচয় প্রণয়ের দিকে এগিয়ে যায়। রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসি হবার পরে আহত হৃদয় নিয়ে প্রীতিলতা চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। মাস্টারদা সূর্য সেনের সাথে সাক্ষাৎ করে সরাসরি সশস্ত্র লড়াইয়ে যোগ দেয়। পলাতক জীবনে মাস্টারদা তাকে ইউরোপিয়ান ক্লাব হামলার দায়িত্ব প্রদান করেন। হামলায় প্রীতিলতা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। গ্রেপ্তার এড়াতে সায়ানাইড গ্রহণ করে জীবন বিসর্জন দেন।