চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভালোবেসে জমানো স্মারক নিলামে তুলতে চায় এ সাকিবভক্ত

করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সাকিব আল হাসান নিজের প্রিয় ব্যাট নিলামে তুলে বিক্রি করেছেন। দেখাদেখি অনেক খেলোয়াড় মনোস্থির করেছেন নিলামে তুলবেন প্রিয় ক্রীড়া সামগ্রী-স্মারক। তেমনি করে স্মারক সংগ্রহশালা নিয়ে এগিয়ে আসতে চান হৃদয় আহমেদ নামের এক খুদে ক্রিকেটভক্ত।

লালবাগ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরটি নিজেকে সাকিবভক্ত হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি ভালোবাসেন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অনেক কিছুই জমা করেছেন ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায়।

বিজ্ঞাপন

ধানমন্ডির শেখ জামাল ক্রিকেট একাডেমির ছাত্র হৃদয়। করেন অফস্পিন। মাঝে মধ্যেই চলে আসেন শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠের নেটে বোলিং করতে। সাকিবসহ জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গে রয়েছে তার পরিচিতি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ক্রিকেট ও সাকিবের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ক্রিকেট সামগ্রী সংগ্রহ শুরু করেন হৃদয়। তার সংগ্রহে আছে সাকিব ও মাশরাফীর অটোগ্রাফসহ আন্তর্জাতিক ম্যাচ বল, সাকিব ও ইমরুল কায়েসের অটোগ্রাফসহ আন্তর্জাতিক ম্যাচ বল, সাকিবের অটোগ্রাফসহ ছোট্ট ক্রিকেট ব্যাট, পুমা অফিসিয়াল জার্সি যাতে রয়েছে সাকিবের অটোগ্রাফ, সাকিবের লেখা তার (লেখকের) সাক্ষরিত বই ও একটি রঙিন ছবি।

তিন বছরের সাধনায় হৃদয় সমৃদ্ধ করেছেন তার সংগ্রহশালা। সবকিছুর বিনিময়ে এ কিশোর চান করোনাকালে কিছু অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। নিলামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘অকশন ফর অকশন’য়ে যোগাযোগ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সবকিছু বিবেচনা করে পরে জানিয়ে দেয়া হবে সিদ্ধান্ত।

চ্যানেল আই অনলাইনকে হৃদয় বললেন, ‘অনেকের কাছে এসব মূল্যবান কিছু মনে নাও হতে পারে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যারা ক্রিকেটের ভক্ত, তারা ঠিকই মূল্যায়ন করতে পারবেন যে, সাকিব আল হাসান ও অন্যান্য ক্রিকেটারদের অটোগ্রাফ, অটোগ্রাফসহ জার্সি, ম্যাচ বল কতটা মূল্যবান জিনিস। অনেক সাধনা ও ভালোবাসা দিয়ে এসব সংগ্রহ করেছি। এর কোনো বিনিময় মূল্য হয় না। সাকিব ভাইকে দেখে উৎসাহিত হয়েই নিলামে দিতে চাচ্ছি।’

নেট বোলিং করে প্রাপ্ত জমানো অর্থে লালবাগে দুস্থদের মাঝে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ শুরু করেন হৃদয়। পরে আরও কয়েকজনের আর্থিক সহযোগিতায় অব্যাহত রেখেছেন ত্রাণ কার্যক্রম। এ কিশোর জানালেন, যদি বেশি টাকায় স্মারক বিক্রি হয় তাহলে তা সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনে দিয়ে দেবেন। আর কম টাকায় বিক্রি হলে সেটি দিয়ে নিজ এলাকার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা করবেন।