চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভালোবাসার রঙে রাঙা হোক পৃথিবী

ভালোবাসা এমন এক তীব্র অনুভতি যা দুটি হৃদয়কে এক সুতোয় বেঁধে ফেলে। রূপ, রস, গন্ধবিহীন এই আবেগকে সঙ্গে নিয়ে মানুষ একসঙ্গে পথচলার শপথগ্রহণ করে। এ এমন এক আবেগের নাম, যার কারণে মানুষ ছুটে যায় অসমুদ্র হিমাচল পর্যন্ত অথবা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। ভালোবাসা হলো তীব্র আবেগে মোড়ানো, ভাষায় প্রকাশ না করতে পারা ভীষণ ভালো লাগার এক স্পর্শকাতর অনুভূতির নাম। তাই তো বলা হয়,
ভালবাসা, ভালবাসে শুধুই তাকে
ভালবেসে ভালবাসায় বেঁধে যে রাখে।

ভালবাসা হচ্ছে এক নির্ভরতা। মনটাকে আবিষ্কার করার এক খেলা। কারও মন দিয়ে মনকে ছুঁয়ে দেয়ার নামই ভালবাসা। জীবনে কাউকে ভালবাসার নামই আত্নসমর্পণ, কিন্তু সেখানে কোন গ্লানি নেই।কারণ, প্রকৃত প্রেমের সমর্পণে মানুষ হৃদয়ের বৃহৎকেই উপলব্ধি করতে পারে। ক্ষুদ্রতার লোভে ভালবাসা নয়, হীন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়।

বিজ্ঞাপন

ভালোবাসা এমন এক আবেগ, যেটি আমাদের নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, স্বপ্ন দেখতে শেখায়, ত্যাগ-তিতিক্ষা-ধৈর্য শেখায়। ভালোবাসা শুধু প্রণয় থেকে হয় না। ভালোবাসা স্নেহ, মায়া, মমতা থেকেও আসে। যেমন মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক। অনেক সময় ভালোবাসা আসে শ্রদ্ধা, সম্মান থেকে। প্রণয় অর্থেই হোক আর মায়া-মমতা-সম্মান অর্থেই হোক, ভালোবাসা মানে হলো কারও ভালো চাওয়া। তাই তো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গানের মতো করে মানব মন গেয়ে ওঠে,
‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে
আমার নামটি লিখ তোমার মনেরও মন্দিরে’।

ভালবাসা মানে শ্রদ্ধা, সমর্পণও। ভালবাসা মানে আত্মসুদ্ধিও, সেই সুদ্ধিটাও খুব দরকারী। আজকাল আমরা এতটাই অতি আধুনিক, সম্পর্ক ভাঙতে বা গড়তে সময় লাগে না, তাই সম্পর্কের সুতটাও ঠুনকো।একটু বাতাসেই তাসের ঘরের মত ভেঙে যায়। তাইতো সম্পর্ক গড়তে মনটাকে প্রাধান্য দেয়া জরুরী, নচেৎ সম্পর্কের সুতাটা হঠাৎই আলগা হতে শুরু হয়।

যার সাথে সারা জীবন কাটানোর শপথটা নেয়া,যার সাথে পথ চলবার জন্য অঙ্গিকার করা, যার জন্য সারাদিন পরিশ্রম করা, সেই মানুষটির মনটা যে ভাল নেই তা আমরা বুঝতে সত্যিই ভুলে যাই। আমরা মাঝে মাঝে বুঝিই না, সে ভালো নেই। তাইতো একটা সময় অভিমানগুলো পাহাড় সম হয়ে যায়, প্রিয় মানুষটি দূরে যেতে যেতে হারিয়ে যায়। সে বুঝতে শিখে যায়- প্রতিবাদের চেয়ে নীরবতার ভাষা সহস্রগুণে বেশি ভয়ংকর। ক্যান্ডেল লাইট ডিনার, লং ড্রাইভ আর দামী দামী গিফটস দিয়েও তাই সংসার নামক মায়াজালের বন্ধন ভেঙে যায় নিমিষেই।

১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনেই এ যেন ভালোবাসার আগাম বার্তা নিয়ে বাঙালি মনকেও নাড়া দিয়ে যায় এই বিশেষ দিনটি। দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ফুলে রাঙা আর বাসন্তী মোহে আবিষ্ট ভালোবাসা দিবসটি বাঙালিদের মনের উচ্ছ্বাসকেও যেন বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। ফাল্গুনের শুরুতেই কচি পাতার সবুজ রঙ আর গাছে গাছে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ যেন বলে দিয়ে যায় এ যে ভালোবাসার, কাছে ডাকার দিন দ্বারে সমাগত। সত্যিকার অর্থে কখন, কীভাবে, কোন মুহূর্তে ভালোবাসা মানুষকে ছুঁয়ে যায়, তা হয়তো মানুষ নিজেও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারে না। কোনো বাধা বা শাসনে তাই এই অনুভূতি আটকে থাকে না। এক চিরন্তন, শাশ্বত সুন্দরের নামই তাই ভালোবাসা।

সময়ের সাথে সাথে, যার সাথে সারা জীবন কাটানোর শপথটা নেয়া,যার সাথে পথ চলবার জন্য অঙ্গিকার করা, যার জন্য সারাদিন পরিশ্রম করা, সেই মানুষটির মনটা যে ভাল নেই তা আমরা বুঝতে সত্যিই ভুলে যাই। আমরা মাঝে মাঝে বুঝিই না, সে ভালো নেই। তাইতো একটা সময় অভিমানগুলো পাহাড়সম হয়ে যায়, প্রিয় মানুষটি দূরে যেতে যেতে হারিয়ে যায়। সে বুঝতে শিখে যায়- প্রতিবাদের চেয়ে নীরবতার ভাষা সহস্রগুণ বেশি ভয়ংকর।

ভালবাসার মানুষদের আগলে রাখতে হয় বাবুই পাখির মতো। যদিও অনিশ্চয়তার এই পৃথিবীতে আমরা জানি না বৈশাখে পরিচয় হওয়া মানুষটা মাঘের শীতের সন্ধ্যায় আমাদের হাত আঁকড়ে ধরে থাকবে কিনা। তবুও মানুষ এই অনিশ্চয়তাকে ভালবাসে, পাড়ি দেয় কত অজানা পথ। যাকে ভালবাসেন, তার হাতটাকে আঁকড়ে ধরুন। আঁকড়ে ধরা হাত না ছেড়ে যত তীব্র গতিতেই বাঁধা ধেয়ে আসুক তা মোকাবেলা করুন।

শুভ্র, সুন্দর আর শ্বাশত ভালবাসা যুগে যুগে বেঁচে থাকুন মানুষের মাঝে। ভালোবাসার রঙে রাঙা হোক পৃথিবী। এই ভালোবাসা বছরজুড়ে থাকুক, জীবনজুড়ে থাকুক। ভালোবাসার শক্তিতে জয় হোক সব শুভ চেতনার।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন