চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভালবাসার ‘স্পন্দন’ দিয়ে বাঁচবে মানুষ, বাঁচবে দেশ

করোনা ভাইরাসের এই ক্রান্তিকালে ঘরবন্দি মানুষের চোখ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খায়। করোনার ভয়াবহতা কিংবা করোনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আশাজাগানিয়া কোনো খবর দেখতে পেলেই আমরা তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে ছড়িয়ে দেই।

বৈশ্বিক এই মহামারিতে শত মন খারাপের খবরের ভিড়ে আমরা ভাল খবরকে আঁকড়ে ধরি। করোনার ভ্যাকসিন সংক্রান্ত কোনো নিউজ দেখলেই আমরা একসাথে আশায় বুক বাঁধি এবং বেঁচে থাকার শেষ খড়কুটো টুকুও সেই খবরের মাঝে খুঁজি।

বিজ্ঞাপন

গত কয়েকদিন আগে যখন দেশে করোনা শনাক্তের টেস্ট কিট স্বল্পতার খবর চারিদিকে ঘুরছিল, তখনই আমরা একটি আশার খবরকে আঁকড়ে ধরি। আমারা জেনে খুশি হই যে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল সহজ ও স্বল্পমূল্যে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার পদ্ধতি তথা করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করেছেন। আমরা এতে স্বস্তি পাই, আমারা গর্ব করি।

বিজ্ঞাপন

আবার আমরা যখন শুনি করোনা আক্রান্ত কোনো মুমূর্ষু রোগীর ফুসফুসে জীবন রক্ষাকারী একটু বাতাস পৌঁছে দেয়ার জন্য ভেন্টিলেটর প্রয়োজন, তখন আমরা থমকে যাই। কারণ, আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত। তবু আমরা আশায় বুক বাঁধি। একটা ভাল খবরের প্রত্যাশায় থাকি। আর সে খবরটির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে যখন এদেশেরই কোনো সন্তানের নাম খুঁজে পাই; তখন আমরা আনন্দে বাকরুদ্ধ হই। চোখের কোণে জমে আনন্দ অশ্রু। করোনার এই সংকটের মাঝে তেমনই এক আশার খবর পড়লাম গণমাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

হ্যাঁ, ‘সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে বাংলাদেশে প্রথম ভেন্টিলেটর বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস মেশিন তৈরি করেছেন কার্ডিওলজী এফসিপিএস ট্রেইনি ডা. কাজী স্বাক্ষর এবং ইঞ্জিনিয়ার বায়েজীদ শুভ। এদের তৈরিকৃত ভেন্টিলেটর দিয়ে tidal volume, IE ratio, peak flow, apnea, pressure, respiratory rate, রোগীর শ্বাস সেন্সর সবই নিখুঁতভাবে করা যায়।

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বাংলাদেশের প্রথম এই ভেন্টিলেটরের নাম দেয়া হয়েছে ‘স্পন্দন’। এটি বানাতে তাদেরকে প্রত্যক্ষ ভাবে সহোযোগিতা করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এ এফ কিংশুক এবং আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাজবিরুল হাসান কাব্য। এছাড়া পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করেছেন ডা. আসিফ উর রহমান (আইসিইউ রেজিস্টার, অ্যাপোলা হাসপাতাল), এম তোফাজ্জল আলি, কাজী মনসুর উল হক, ফাহিম আহমেদ, আকিফ মুন্তাসির ও সোহেল রানা।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে ডা. স্বাক্ষর এবং ইঞ্জিনিয়ার বায়েজিদের আবিষ্কার মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে অসাধারণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী চিকিৎসকরা।

চিকিৎসদের সাথে আমারাও আশাবাদী। এই আমি-আমরাও বিশ্বাস করি যে কোন সংকটে ভালবাসার এমন এক একটি ‘স্পন্দন’ দিয়েই বাঁচবে মানুষ, বাঁচবে দেশ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)