চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভার্চুয়াল হাইকোর্টে জামিন পেলেন বরখাস্ত জেলার সোহেল রানা

চট্টগ্রাম কারাগারের বরখাস্ত (কারা তত্ত্বাবধায়ক) জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে অর্থ পাচার মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না করা পর্যন্ত সোহেল রানার জামিন দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আজ ভার্চুয়াল আদালতে সোহেল রানার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী ও শাকিলা রওশন। আর জামিনের বিরোধীতা করেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। আর শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী শামসুন নাহার কনা ও মাহজাবিন রাব্বানী দীপা।

আদেশের পর দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আমারা আপিল করবো।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর রেলওয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ টাকা ও মাদকসহ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে পুলিশ তাকে রেলওয়ে থানায় নিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করে ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, আড়াই কোটি টাকার তিনটি ব্যাংক এফডিআর, এক কোটি ৩০ লাখ টাকার তিনটি ব্যাংক চেক, পাঁচটি চেক বই ও ১২ বোতল ফেনসিডিল পায়। পরে সোহেলের বিরুদ্ধে ভৈরব রেলওয়ে থানায় অর্থপাচার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করে রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক আশরাফ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল জানায়, তল্লাশি করে পাওয়া ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা তার নিজের। বাকি টাকা অন্যদের। গত বছরের ওই ঘটনার আগে সোহেল বিশ্বাস কারাগারে মাদক ব্যবসাসহ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একবার বরখাস্ত হন। এছাড়া ২০১০ সালে কর্তব্যে অবহেলা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এসময় তার চাকরিও চলে যায়।

পরে বিভাগীয় আপিল করে তিনি চাকরি ফিরে পান। তবে টাকা ও মাদকসহ গত বছর গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানাকে কারাগারে যেতে হয়। এর পর নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন সোহেল রানা। গত ৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট তার জামিন প্রশ্নে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন।

তবে তার আইনজীবী শুনানি শেষে মামলাটি আর চালাবেন না মর্মে আদালতকে জানালে (নন প্রসিকিউশন) আদালত রুল খারিজ করে দেন। যার ফলে সোহেল রানাকে তখন কারাগারেই থাকতে হয়। এরপর সর্বশেষ ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন আবেদন করেন সোহেল রানা।