চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আসামিকে দেখে রিমান্ড শুনানি করা যাবে

ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আসামিকে স্বচক্ষে দেখে রিমান্ড শুনানি করা যাবে।

ফৌজদারি মামলায় রিমান্ড শুনানি সংক্রান্ত অতিরিক্ত বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনা বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ফৌজদারি কোনো মামলার আসামির রিমান্ড শুনানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলখানায় ভার্চুয়াল কনফারেন্সের লিংক পাঠিয়ে শুনানি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আসামিকে কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে স্বচক্ষে দেখে শুনানি করা সম্ভব হলে রিমান্ড শুনানি করা যাবে। এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিশেষ কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বা আপিল দায়ের বিষয়ে আজকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘১৯৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এন আই) অ্যাক্ট এর অধীন মামলা দায়েরসহ যেসব দেওয়ানি এবং ফৌজদারি মামলা দায়ের বা আপিলের ক্ষেত্রে আইনে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে এবং যেসব মামলা বা আপিলেরর ক্ষেত্রে ১৯০৮ সালের লিমিটেশন অ্যাক্টের ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়, সেসব মামলা বা আপিলের ফাইলিং ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে গ্রহণ করা যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট তা গ্রহণ করে শুনানি অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারার অধীন জবানবন্দি গ্রহণের জন্য উপযুক্ত সময়ে একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন।’

এর আগে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দীর্ঘদিন ধরে আদালত বন্ধ থাকায় অনেক আইনজীবী ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য সোচ্চার হন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘ফুল কোর্ট সভা’ থেকে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারির জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। সে প্রেক্ষাপটে ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিতি হিসেবে গণ্য করে “আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ- ২০২০” নামে গত ৯ মে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ। এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে গত ১০ মে ভার্চুয়াল আদালত সংক্রান্ত কয়েকটি নির্দেশনা জারি করা হয়। যেখানে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ এবং অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের জন্য আলাদা আলাদা ‘প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ দেয়া হয়। এছাড়া আইনজীবীদের জন্য প্রকাশ করা হয় ‘ভার্চুয়াল কোর্টরুম ম্যানুয়াল’।

এরই ধারাবাহিতায় করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক সাধারণ ছুটি ও অবকাশকালীন ছুটি বা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত, হাইকোর্ট ও সারাদেশের অধস্তন আদালতগুলো ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে পরিচালনার জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়। এরপর গত ১১ মে দেশের ইতিহাসে প্রথম ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।