চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভার্চুয়াল আদালতে ৮ দিনে সাড়ে ১৮ হাজার আসামির জামিন

করোনাভাইরাসের মধ্যে শুরু হওয়া ভার্চুয়াল মাধ্যমে সারাদেশের অধস্তন আদালতে গত আট কার্যদিবসে ১৮ হাজার ৫শ ৮৫ জন আসামিকে জামিন দেয়া হয়েছে।

এই সময়ে ভার্চুয়াল হাইকোর্ট থেকেও বেশ কিছু জামিন আদেশ হয়েছে। আর এরই মধ্যে জামিন পেয়েছেন দুই শতাধিক শিশু।

বিজ্ঞাপন

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের দেয়া তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বপ্রথম গত ১১ মে কুমিল্লার ভার্চুয়াল আদালত থেকে ১ জন আসামির জামিন আদেশ হয়। এরপর ১২ মে সারাদেশের অধস্তন ভার্চুয়াল আদালতগুলো থেকে ১৪৪ জন, ১৩ মে ১০১৩ জন, ১৪ মে ১৮২১ জন, ১৭ মে ৩৪৪৭ জন, ১৮ মে ৩৬৩৩ জন, ১৯ মে ৪০৪২ জন এবং ২০ মে ৪৪৮৪ জন আসামির জামিন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দীর্ঘদিন ধরে আদালত বন্ধ থাকায় অনেক আইনজীবী ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য সোচ্চার হন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘ফুল কোর্ট সভা’ থেকে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারির জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।

সেই প্রেক্ষাপটে ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিতি হিসেবে গণ্য করে “আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ- ২০২০” নামে গত ৯ মে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ।

এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে গত ১০ মে ভার্চুয়াল আদালত সংক্রান্ত কয়েকটি নির্দেশনা জারি করা হয়। যেখানে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ এবং অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের জন্য আলাদা আলাদা ‘প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ দেয়া হয়। এছাড়া আইনজীবীদের জন্য প্রকাশ করা হয় ‘ভার্চুয়াল কোর্টরুম ম্যানুয়াল’।

এরই ধারাবাহিতায় করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক সাধারণ ছুটি ও অবকাশকালীন ছুটি বা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত, হাইকোর্ট ও সারাদেশের অধস্তন আদালতগুলো ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে পরিচালনার জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়। এরপর গত ১১ মে দেশের ইতিহাসে প্রথম ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।