চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিতির অধ্যাদেশ জারি

ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিতি হিসেবে গণ্য করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

‘আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ- ২০২০’ নামের এই অধ্যাদেশটি ৯ মে জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ।

বিজ্ঞাপন

অবিলম্বে কার্যকরের এই অধ্যাদেশটি আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা থেকে এরপর গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যেখানে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু মামলার বিচার (trial), বিচারিক অনুসন্ধান (inquirt), দরখাস্ত বা আপীল শুনানি, সাক্ষ্য ( evidence ) গ্রহণ, যুক্তিতর্ক ( argument ) গ্রহণ, আদেশ ( order ) বা রায় ( judgment ) প্রদানকালে পক্ষগণের ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে আদালতকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা প্রদানের বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়ােজনীয়;

যেহেতু সংসদ অধিবেশনে নাই এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়ােজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;

সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ ( ১ ) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন।’

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি বা দেওয়ানি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনাে আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে কোনাে আদালত, এই অধ্যাদেশের ধারা ৫ এর অধীন জারিকৃত প্র‍্যাকটিস নির্দেশনা ( বিশেষ বা সাধারণ ) সাপেক্ষে , অডিও – ভিডিও বা অন্য কোনাে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে বিচারপ্রার্থী পক্ষগণ বা তাহাদের আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি বা সাক্ষীগণের ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিতক্রমে যে কোনাে মামলার বিচার (trial) বা বিচারিক অনুসন্ধান (inquiry), বা দরখাস্ত বা আপীল শুনানি, বা সাক্ষ্য (evidence) গ্রহণ, বা যুক্তিতর্ক (argument) গ্রহণ, বা আদেশ (order) বা রায় (judgment) প্রদান করিতে পারবে।’

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ‘অডিও – ভিডিও বা অন্য কোনাে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে বিচারপ্রার্থী পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি বা সাক্ষীগণের ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করা ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি বা ক্ষেত্রমত, দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হইবে।’

এছাড়া ‘কোনাে ব্যক্তির ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করা হইলে ফৌজদারি কার্যবিধি বা দেওয়ানি কার্যবিধি বা অনা কোনাে আইনের অধীন আদালতে তাহার স্বশরীরে উপস্থিতি বাধ্যবাধকতার শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে।’

এই অধ্যাদেশে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ বা ক্ষেত্রমত, হাইকোর্ট বিভাগ সময় সময় প্রাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারণ) জারি করতে পারবে।’

এর আগে গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অধ্যাদেশের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সেদিন এবিষয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, ‘যেহেতু সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারী রোধ কল্পে এক মাসের বেশি সময় ধরে কতিপয় ব্যতিক্রম ছাড়া আদালতসহ সরকারি, বেসরকারি সকল ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষের সমাগম হয়- এমন সব কর্মকাণ্ডও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেজন্য দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকায় মামলাজট যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি বিচারপ্রার্থীরা বিচারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে এবং বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুবিধার্থে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার জন্য আইনি বিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন বলে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট মনে করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম চালানোর জন্য ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ- ২০২০’ শীর্ষক একটি অধ্যাদেশের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হলে তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।’

মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরো বলেন, ‘বর্তমানে সংসদ চালু না থাকায় জরুরি ভিত্তিতে এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয় আরেকটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে এটি অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করবে। সংসদ বসার প্রথম দিন এটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে।’